কৃষি

কচুর বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কুমিল্লার লালমাইয়ের কৃষকরা

1
kochu

কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড়ের বুকে বিভিন্ন শাক-সবজি, ফল-মূল উৎপাদন হয়ে আসছে। লালমাই পাহাড়ের আদি অধিবাসীদের একমাত্র প্রধান পেশা হলো কচু চাষ করা। চলতি বছরে লালমাই পাহাড়ে কচুর বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছে কৃষকরা।

একজন চাষি আগে থেকে বলতে পারেন কোন বছর তাদের বাম্পার ফলন হবে। যে বছর বৃষ্টি বেশি হবে, সেই বছর কচুর চড়ার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকে। চারা বপনের সময় এ কচুর ছড়া প্রতি বছরে একবার হয়ে থাকে। প্রথমে কৃষকরা পাহাড়ে কোঁদাল দিয়ে মাটি কেটে বীজ বপনের জন্য প্রস্তুত করে। মাটি কাটা শেষ হলে বীজ বপনের কাজ শুরু হয়। বীজ রোপণ করতে হয় এক হাতের মধ্যে তিনটি।

প্রতি শতকে ছড়া উৎপাদনে খরচ হয় ৮০০-১০০০ টাকা। আর তা বিক্রি করা হয় ১২০০-১৫০০ টাকা। শতকে উৎপাদন হয়ে থাকে ৩-৪ মণ। কৃষকরা এ পেশার অর্থ উপার্জন দিয়ে সংসার, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করে থাকেন।

আরও পড়ুনঃ মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষে ভাগ্য বদলাচ্ছে মেহেরপুরের চাষীদের

উপজেলা কৃষি অফিসারের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, চলতি বছর প্রায় ৪৫ হেক্টর জমিতে কচুর ছড়া উৎপাদন করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি হেক্টর জমিতে কচুর ছড়া উৎপাদন হবে ২০ টন। ৪৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হবে প্রায় ৯০০ টন। এক সময় এ লালমাই পাহাড়ের কচুর ছড়া দেশের সকল জেলার চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করে উপার্জন করা হতো বৈদাশিক মুদ্রা।

লালমাই পাহাড়ের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, পাহাড়ে পানি সেচ দেয়ার কোনো ব্যবস্থা না থাকার কারণে বৃষ্টির উপর আমাদের ফসলের জন্য নির্ভর হয়ে থাকতে হয়। যেহেতু এ বছর আগাম বৃষ্টি হয়েছে তাই আমরা বেশী ফলনের আশা করতে পারি। অপর কৃষক আমির হোসেন জানান, আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত যদি অনুকূলে থাকে তাহলে এবার বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আইউব মাহমুদ এ বিষয়ে জানান, আমরা পাহাড়ের অধিবাসী কৃষকদের সকল ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকি। যাতে করে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও পাহাড়ে কচুর ছড়া চাষে বিপ্লব ঘটবে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মাতাচ্ছেন বোলাররা

Previous article

এসএমই ফাউন্ডেশন আরো ৪৫০ কোটি টাকা ঋণ দেবে

Next article

You may also like

1 Comment

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More in কৃষি