জাতীয়স্বাস্থ্য এইডস প্রতিরোধে বাংলাদেশ : ‘মৃদু আক্রান্তের দেশ’ থেকে নির্মূলের পথে সরকারের কৌশল By নিজস্ব প্রতিবেদক 24 hours ago1 ShareTweet 1 এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রতিবেশী দেশগুলোতে মহামারি আকারে এই রোগ ছড়িয়ে পড়লেও, বাংলাদেশকে এখনও ‘মৃদু আক্রান্তের দেশ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সাফল্য ধরে রাখতে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এইচআইভি নির্মূলের লক্ষ্য অর্জনে সরকার, বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সুদূরপ্রসারী ভূমিকা ও নীতিমালা গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও এইডস নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রাম: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত জাতীয় এইডস/এসটিডি কন্ট্রোল (NASP) প্রোগ্রামটি এইডস প্রতিরোধের জাতীয় উদ্যোগের মূল কেন্দ্রবিন্দু। ভূমিকা ও কার্যক্রম: NASP হলো সরকারের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব প্রদানকারী সংস্থা যা এইচআইভি/এইডস কর্মসূচি প্রণয়ন, সমন্বয়, বাস্তবায়ন এবং তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উপর মনোযোগ: নব্বইয়ের দশক থেকে এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন নারী যৌনকর্মী (FSW), ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী (PWID), পুরুষ সমকামী (MSM) ও হিজড়াদের (তৃতীয় লিঙ্গ) জন্য বিশেষ প্রতিরোধমূলক সেবা প্রদানে গুরুত্ব দিচ্ছে। ড্রপ ইন সেন্টার (DIC) কৌশল: বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ‘ড্রপ ইন সেন্টার’ বা সেবা কেন্দ্র কৌশল বাস্তবায়ন করা হয়। এই কেন্দ্রগুলোতে গোপনীয়তা বজায় রেখে কনডম বিতরণ, এইচআইভি পরীক্ষা, কাউন্সেলিং এবং যৌনবাহিত রোগের চিকিৎসার মতো প্রতিরোধমূলক সেবা প্রদান করা হয়। চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ (ART): এইচআইভি আক্রান্তদের জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টি-রেট্রোভাইরাল থেরাপি (ART) সেবা নিশ্চিত করতে সারাদেশে সরকারি হাসপাতালগুলোতে এআরটি সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, আক্রান্তদের একটি বৃহত্তর অংশকে চিকিৎসার আওতায় আনা। মা থেকে শিশুতে সংক্রমণ প্রতিরোধ (PMTCT): গর্ভবতী মায়েদের মধ্যে এইচআইভি পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘মা থেকে শিশুতে এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধ’ কার্যক্রম চলছে। জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা: ২০৩০ লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশ সরকার এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধের জন্য পর্যায়ক্রমে জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা (National Strategic Plan – NSP) গ্রহণ করেছে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: নীতি-নির্ধারণী কাঠামো হিসেবে এই কৌশলপত্রগুলো সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকনির্দেশ করে। উদাহরণস্বরূপ, সর্বশেষ পঞ্চম জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা (২০২৪-২০২৮)-এ এইচআইভি মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কৌশল ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। আরও পড়ুনঃ তরুণ প্রজন্ম ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীতে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ! “90-90-90” লক্ষ্য: এই কৌশলগত পরিকল্পনা জাতিসংঘের এইডস কর্মসূচির “90-90-90” (এখন “95-95-95”) লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক। এর প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হলো- সম্ভাব্য আক্রান্তদের ৯০% কে শনাক্ত করা। শনাক্তকৃতদের ৯০% কে চিকিৎসাসেবার (এআরটি) আওতায় আনা। চিকিৎসাধীনদের মধ্যে ৯০% এর শরীরে ভাইরাসের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা। বাজেট ও ফান্ডিং পরিস্থিতি: দেশি-বিদেশি সহযোগিতা ঐতিহাসিকভাবে, বাংলাদেশে এইচআইভি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের একটি বড় অংশ গ্লোবাল ফান্ড এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে। সরকারি অর্থায়ন বৃদ্ধি: একসময় প্রধানত বৈদেশিক অর্থায়নে চললেও, সরকারের পক্ষ থেকে কর্মসূচিতে নিজস্ব বাজেট বরাদ্দ ক্রমশ বাড়ছে। ২০১৫ সাল থেকে কিছু কার্যক্রম সরকারি অর্থায়নেও চলমান। এনজিও’র ভূমিকা: সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাগুলো (এনজিও) প্রতিরোধ ও সেবাদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এএসপি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করে থাকে। আহ্বান: ২০৩০ সালের মধ্যে এইডস নির্মূলের লক্ষ্য পূরণে জাতীয় বাজেট বরাদ্দ আরও বাড়ানো এবং টেকসই অভ্যন্তরীণ অর্থায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। চ্যালেঞ্জ ও করণীয়: পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সরকারের প্রচেষ্টার পাশাপাশি আরও কিছু বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। অপবাদ ও বৈষম্য নিরসন: এইচআইভি আক্রান্তদের প্রতি সামাজিক অপবাদ ও বৈষম্য এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা নিতে নিরুৎসাহিত করে। এই বিষয়ে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি। সচেতনতা বৃদ্ধি: ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং শিক্ষামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক আচরণকে উৎসাহিত করা। সেবা সম্প্রসারণ: দেশের সব অঞ্চলে এইচআইভি পরীক্ষা ও এআরটি সেবার পরিধি বাড়ানো এবং গুণগত মান নিশ্চিত করা। পরিশেষে, সরকারি নীতি, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার সমন্বয়ে বাংলাদেশ এইচআইভি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে একটি সফল মডেল তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এইডস নির্মূলের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার এবং সকল অংশীদারের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। মো. মাসুদুজ্জামান
ই-ক্যাব ইয়ুথ ফোরামের হাত ধরে শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটিতে যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে ই-কমার্স ক্লাবের February 8, 20231913 views