উদ্যোক্তার গল্পদেশি উদ্যোক্তা

ঋণ নিয়ে ক্ষীর বানিয়ে সফল বিউটি, পেয়েছেন পদক

0
ঋণ নিয়ে ক্ষীর বানিয়ে সফল বিউটি, পেয়েছেন পদক

শুরুটা স্বামীর ক্ষীরের ব্যবসায় সহযোগিতা করতে গিয়ে। পরে শুরু করেন নিজের ব্যবসা। পেয়েছেন উপজেলার সেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন পদক।

২০১২ সালে পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) থেকে ১৫ হাজার টাকা ঋণ নেন বিউটি। তারপর পরিধি বাড়ান ক্ষীর ব্যবসার। শুরুতেই ক্ষীর বানিয়ে দেখেন লাভের মুখ। সংসারের ফেরে সচ্ছলতা।

২০০৬ সালে অষ্টম শ্রেণিতে থাকতেই বিয়ে হয় বিউটির। কম বয়সে বিয়ে হওয়ার পরও হাল ছাড়েননি তিনি। সিদ্ধান্ত নেন, ব্যবসা করবেন। প্রতিবেশী নারীদের নিয়ে গড়ে তোলেন একটি সমিতি। ঋণ নিয়ে ক্ষীর বানিয়ে তিনি আজ সফল। মাসে আয় করছেন ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা।

ক্ষীরের ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি বিউটি কুড়িয়েছেন সুনাম ও পুরস্কার। উপজেলার সেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় পল্লী উন্নয়ন পদক। পেয়েছেন মহিলা অধিদপ্তর থেকে জয়িতা পুরস্কার

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা জানান, চাঁদপুর মতলব দক্ষিণ উপজেলার ক্ষীরের শত বছরের ঐতিহ্য রয়েছে। বিআরডিবি থেকে ঋণ নিয়ে বিউটি রানী ঘোষ ক্ষীরের ব্যবসা করে আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ কেমন ছিলো ‘রাফিজাস ক্লোজেট’-এর যাত্রা শুরুর গল্প?

বিউটি জানান, তার পৈতৃক বাড়ি জেলা শহরের পুরানবাজার এলাকায়। ছোটবেলা থেকে অসচ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তার শৈশব কেটেছে অভাবে। ইচ্ছা ছিল পড়ালেখা করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। কিন্তু আর্থিক সমস্যায় অষ্টম শ্রেণির পর আর পড়তে পারেননি। কিন্তু বিয়ের পর তিনি নিজেকে শেষ হতে দেননি।

উদ্যোক্তা বিউটি বলেন, কয়েক দফা ঋণ নিয়ে ক্ষীরের ব্যবসার পরিধি বাড়ান। এখন প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ কেজি ক্ষীর বানিয়ে বিক্রি করেন। মাসে গড় বিক্রি তিন লক্ষাধিক টাকা। লাভ থাকে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। প্রতি কেজি ক্ষীর বানাতে ৩৫০ টাকা খরচ হয়। বিক্রি করেন ৪০০ টাকায়।

ক্ষীরের ব্যবসা করে বিউটি ৭ শতক জমি কিনেছেন। সেখানে বাড়ি করবেন। সন্তানকে উচ্চশিক্ষিত কারার আশা তার।

তার বানানো ক্ষীর যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে, এ বিষয়ে বিউটি বলেন, প্রবাসে থাকা মানুষ বাড়িতে এলে আমাদের কাছে আসেন ক্ষীর কিনতে। ছুটি শেষে প্রবাসে ফেরার সময় এসে বেশি করে কিনে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে যান। কারণ, প্রবাস থাকা আত্মীয়রা তাদের কাছে অর্ডার পাঠান।

স্বামী উৎপল কুমার ঘোষ জানান, প্রথমে আমি একা ক্ষীরের ব্যবসা শুরু করি। পরে আমার স্ত্রীর সহযোগিতায় আমরা ব্যবসা বড় করেছি। গুণমান ঠিক রেখে ক্ষীরের ব্যবসা করে আজ সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি আমরা।

প্রসঙ্গত, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দুগ্ধজাত মিষ্টান্ন ক্ষীরের ইতিহাস শত বছরের। এখানকার ক্ষীর গুণেমানে সেরা, সুনাম ও ঐতিহ্য ছড়িয়েছে দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও।

২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন

Previous article

তুরস্কে অভিবাসন প্রত্যাশীদের নৌকা ডুবে ৬ জনের মৃত্যু

Next article

You may also like

Comments

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *