জাতীয়স্বাস্থ্য “টেস্টিং বাড়লেও অনেক রোগী ‘অদৃশ্য’—এইডসে বাংলাদেশে নতুন অ্যালার্ম” By নিজস্ব প্রতিবেদক 7 minutes ago0 ShareTweet 0 ২০২৪ সালের রেকর্ড অনুযায়ী বাংলাদেশে এইচআইভি ও এইডস রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এক বছরেই ১,৪৩৮ নতুন এইচআইভি পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং প্রায় ১৯৫-৩২৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে — যা নাগরিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি। তবে, যথেষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্র ও সেবা থাকলেও, রোগী-পরিচর্যা, সচেতনতা, সামাজিক কলঙ্ক ও গোপনীয়তার অভাব অনেককে পরীক্ষায় বা চিকিৎসায় আসতে বাধা দিচ্ছে। কী বলছে পরিসংখ্যান ২০২৪ সালে মোট ১,৪৩৮ নতুন এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়কালে প্রতি এইচআইভি সংক্রান্ত মৃত্যু ১৯৫-৩২৬ জন। বহু বছর ধরেই এইচআইভি/এইডস সংখ্যায় সমগ্র দেশ জুড়ে গড়ে ওঠেছে: ২০২০ সালে ৬৫৮, ২০২১ সালে ৭২৯ এবং ২০২৪–এ ডায়াগনোসিস প্রায় দ্বিগুণ — ১,৪৩৮। বিপুল অংশ আক্রান্ত ২৫–৪৯ বছর বয়সী, রিস্ক গ্রুপ হিসেবে রয়েছে যুবক, ইনজেকশান ড্রাগ ব্যবহারকারী, যৌনকর্মী, ঝুঁকিপূর্ণ যৌনাচারকারী এবং রিফিউজি বা অভিবাসী সম্প্রদায়। এসব তথ্য নির্দেশ করে: এইচআইভি এখন শুধুই “একটু সচেতন হলে এড়িয়ে যাওয়া যায় এমন রোগ” নয় — এটি দ্রুত সম্প্রসারিত হতে পারে, বিশেষ করে যখন সচেতনতা ও সেবা অব্যাহত না থাকে। টেস্টিং ও চিকিৎসা — অবকাঠামো ও সীমাবদ্ধতা সরকারিভাবে country-wide হাইভ পরীক্ষার জন্য রয়েছে “HTC / HTS (HIV Testing & Counselling / HIV Testing Services)” সেন্টার। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি তালিকায় বেশ কয়েকটি হাসপাতাল HTC-সেন্টার হিসেবে যুক্ত। পাশাপাশি, National AIDS/STD Control Programme (NASP) ও সংশ্লিষ্ট ART–সেন্টারগুলো থেকে antiretroviral থেরাপি (ART) দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ART-centre এর সংখ্যা সম্প্রসারিত হয়ে কমপক্ষে ১২টি হয়েছে। তবে, সারা দেশে পরীক্ষাকেন্দ্র বা ART-সেন্টারের ভৌগোলিক বিস্তৃতি এখনও অসম — প্রত্যেক জেলা/উপজেলায় নয়। অনেক রোগী দূরত্ব, গোপনীয়তা, সামাজিক কলঙ্ক এবং তথ্যের অভাবে সেবা নিতে পারছে না। সচেতনতা, গোপনীয়তা ও টেস্টিং অনীহা রিপোর্ট অনুযায়ী, অনেক এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি নিজে জানে না। প্রাথমিক কনসেলিং ও সচেতনতার অভাব এবং সামাজিক কলঙ্কের কারণে অনেকেই টেস্ট বা চিকিৎসা থেকে বিরত থাকে। যাদের জানতে পারছে, তাও নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন না — অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসার জন্য নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে পারছেন না বা ভিজিট করতে দ্বিধা তো রয়েই গেছে। আরও পড়ুনঃ এইডস প্রতিরোধে বাংলাদেশ : ‘মৃদু আক্রান্তের দেশ’ থেকে নির্মূলের পথে সরকারের কৌশল এর ফলে, রোগ শনাক্ত হলেও পুরো কেয়ার-চেইন (টেস্ট → কনসেলিং → ART → নিয়মিত ফলোআপ) বজায় থাকে না, যা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও ভাইরাসের বিস্তার রোধে বাধা। কেন সমস্যা এত মারাত্মক হয়েছে? কেন্দ্র সীমাবদ্ধতা ও কভারেজের ঘাটতি: HTC ও ART-সেন্টারগুলো দেশব্যাপী সুনির্দিষ্টভাবে ছড়ানো না থাকায়, বহু জেলা/উপজেলায় পৌঁছানো যায় না। গোপনীয়তার অভাব ও সামাজিক কলঙ্ক: এইচআইভি/এইডস এখনও অনেকের কাছে ট্যাবু, ফলে মানুষ টেস্ট করাতে বা চিকিৎসা নিতে দ্বিধা করে। সচেতনতা কম: ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, নিরাপদ যৌনাচার, ইনজেকশন সতর্কতা ইত্যাদি বিষয়ে জনগণের তথ্য–জ্ঞান প্রয়োজন বেশি। নিয়মিত চিকিৎসা এবং ফলোআপ ব্যাহত: টেস্ট করে এইচআইভি পজিটিভ হলেও, নিয়মিত ART ও কাউন্সেলিং না পেলে রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নিয়ন্ত্রণ ও নীতি প্রয়োগে শিথিলতা: সংক্রমণ রোধ, রিফিউজি/মাইগ্র্যান্ট/রিস্ক-গ্রুপগুলোর বিশেষ নজর, এবং নিরাপদ ইনজেকশন–রীতি পালন এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তৎপরতার আহ্বান ও প্রস্তাব সচেতনতা বৃদ্ধি: সাধারণ জনগণকে নিরাপদ যৌনাচার, নিরাপদ ইনজেকশন, নিয়মিত টেস্টিং—এই বিষয়গুলো নিয়ে সচেতন করতে হবে। টেস্টিং ও কাউন্সেলিং কেন্দ্র সম্প্রসারণ: প্রতিটি জেলায় HTC/HTS সেন্টার — এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য outreach/testing drive। গোপনীয়তা ও কলঙ্কমুক্ত পরিবেশ: এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তিদের জন্য গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে; যাতে তারা নির্দ্বিধায় চিকিৎসা ও মনোরোগ/সামাজিক কাউন্সেলিং পায়। ART এবং নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করা: ART সেন্টার সংখ্যা বাড়ানো, ঔষধ সরবরাহ চালু রাখা, প্রতিকূল অঞ্চলেও চিকিৎসা পৌঁছানো। নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীতে ফোকাস: ড্রাগ-ইউজার, যৌনকর্মী, তৃতীয় লিঙ্গ, অভিবাসী/রিফিউজি গোষ্ঠী—এই গোষ্ঠীগুলোর জন্য বিশেষ সচেতনতা, টেস্টিং ও সুবিধা। বাংলাদেশ এখন এইচআইভি/এইডস এর দৃষ্টিকোণ থেকে বিপদসীমার দিকে ধাবিত। সংখ্যাগরিষ্ঠ নতুন রোগী শনাক্ত হলেও, রোগীর যথাযথ পর্যায়ে চিকিৎসা অর্জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীতে তথ্য–সচেতনতা বা প্রিভেন্টিভ স্টেপস গৃহীত হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি থামাতে হলে, কেবল কেন্দ্র বাড়িয়ে নয় — সামাজিক কলঙ্ক ও গোপনীয়তা, ভয় উপশম করে, সচেতনতা জাগিয়ে, প্রতিটি মানুষকে জানাতে হবে: “রোগ নয় — স্বাস্থ্য, অধিকার ও দায়িত্ব।” মো. মাসুদুজ্জামান
ই-ক্যাব ইয়ুথ ফোরামের হাত ধরে শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটিতে যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে ই-কমার্স ক্লাবের February 8, 20231913 views