জাতীয়স্বাস্থ্য তরুণ প্রজন্ম ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীতে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ! By নিজস্ব প্রতিবেদক 2 days ago1 ShareTweet 1 বাংলাদেশে এইচআইভি/এইডস-এর সামগ্রিক প্রকোপ সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ০.১ শতাংশের (১৫-৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে) কম থাকলেও, সাম্প্রতিক সরকারি-বেসরকারি পরিসংখ্যান এক নতুন এবং উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। বিগত কয়েক বছরে নতুন করে এইচআইভি শনাক্তের হার দ্রুত বেড়েছে, যা দেশের এইডস মোকাবিলা কর্মসূচির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সরকারি-বেসরকারি সর্বশেষ পরিসংখ্যান স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং ইউএনএইডস-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে এইচআইভি সংক্রমণের চিত্রটি নিম্নরূপ- মোট সম্ভাব্য আক্রান্ত: দেশে বর্তমানে ১৪,০০০ থেকে ১৭,০০০ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বেঁচে আছেন বলে অনুমান করা হয়। (সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ইউএনএইডস) শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২০২৪ সালে নতুন শনাক্ত: ১,৪৩৮ জন (পুরুষ ১,১১০, নারী ৩১৩ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১৫ জন)। ২০২৩ সালে নতুন শনাক্ত: ১,২৭৬ জন। ২০২০ সালে নতুন শনাক্ত: ৬৫৮ জন। বৃদ্ধির হার: বিগত পাঁচ বছরে (২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত) এইচআইভি শনাক্তের হার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। (২০২০: ৬৫৮ থেকে ২০২৪: ১,৪৩৮) চিকিৎসার আওতা: মোট আক্রান্তের মধ্যে প্রায় ৮৪% (আনুমানিক ৮,০০০ – ৯,৭০০ জন) চিকিৎসার (এআরটি) আওতায় এসেছেন। মৃত্যু: এইডস-সংক্রান্ত রোগে মোট মৃত্যু হয়েছে ১,৫৮৮ জনের বেশি। (২০২০ সালে ২০৫ জন, ২০২২ সালে ২৩২ জন, ২০২৩ সালে ২৬৬ জন) সংক্রমণের হার বৃদ্ধি বা হ্রাসের ট্রেন্ড বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ: বিগত ৫ বছরে সংক্রমণ দ্বিগুণেরও বেশি, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীও একটি বড় অংশ বাংলাদেশে নতুন সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে- সংক্রমণ বৃদ্ধি: ২০২০ সাল থেকে নতুন সংক্রমণের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে, যা এই হার বৃদ্ধির প্রবণতা নির্দেশ করে। সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ বয়স: গত পাঁচ বছরে ২৫-৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি (৪,৪৪৮ জনের বেশি শনাক্ত)। তবে সম্প্রতি ১৭ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে, যা একটি নতুন উদ্বেগের কারণ। লিঙ্গভিত্তিক প্রবণতা: মোট শনাক্ত রোগীর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা নারীদের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তবে, কিছু গবেষণায় ২০৩০ সাল নাগাদ নারীদের মধ্যে নতুন সংক্রমণের শতাংশগত বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে এইচআইভি সংক্রমণ সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে কম হলেও, এটি প্রধানত ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর (Key Populations – KPs) মধ্যে সীমাবদ্ধ: ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সংক্রমণ হার অঞ্চল ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী (PWID) ঢাকা শহরে ৭% থেকে ১০.৫% পর্যন্ত। সিরাজগঞ্জে শনাক্ত রোগীদের ৭৩% (PWID)। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মোট শনাক্ত রোগীর একটি বড় অংশ। কক্সবাজার (শরণার্থী শিবির এলাকা)। পুরুষ যৌনকর্মী (MSM)ঢাকা বিভাগে ৩.১% পর্যন্ত। এছাড়া ঢাকা এবং চট্টগ্রামে যৌনকর্মী ও হিজড়া অন্যদের তুলনায় উচ্চ ঝুঁকি সম্পন্ন। সীমান্তবর্তী এলাকা পার্শ্ববর্তী উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের কারণে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি। যশোর ও রাজশাহীতে ২০২৫ সালের প্রথম ১০ মাসে শনাক্ত ৪০ জনের মধ্যে ২৫ জনই শিক্ষার্থী। প্রবাসী/অভিবাসী অভিবাসীদের মাধ্যমে ভাইরাস দেশে প্রবেশ করার ঝুঁকি রয়েছে। যশোর এবং রাজশাহীর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ১৭ থেকে ২৩ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তরুণদের মধ্যে যৌন সচেতনতা ও শিক্ষার অভাব, অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক, এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ। প্রতিরোধের কৌশল ও করণীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই মহামারীর বিস্ফোরণ এড়াতে হলে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ১) সচেতনতা বৃদ্ধি: বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে যৌনশিক্ষা এবং এইচআইভি বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। ২) ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে কর্মসূচি: PWID, MSM, যৌনকর্মী এবং হিজড়াদের জন্য প্রতিরোধমূলক এবং চিকিৎসা-সহায়তা কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। ৩) টেস্টিং ও কাউন্সেলিং: ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো জরুরি। ৪) কলঙ্ক ও বৈষম্য দূরীকরণ: এইচআইভি আক্রান্তদের প্রতি সামাজিক কলঙ্ক ও বৈষম্য কমাতে ব্যাপক প্রচার চালানো উচিত, যাতে তারা নির্ভয়ে চিকিৎসা নিতে পারে। মো. মাসুদুজ্জামান
ই-ক্যাব ইয়ুথ ফোরামের হাত ধরে শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটিতে যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে ই-কমার্স ক্লাবের February 8, 20231913 views