জীবনযাপনস্বাস্থ্য

বাতিল-অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমানোর নেশাই যখন রোগ

0
hd

এমন এক মানসিক সমস্যা, যেখানে মানুষ অকারণে নানাবিধ জিনিস জমাতে থাকেন। সেই সব জিনিসের অধিকাংশই বাতিল, অপ্রয়োজনীয়। যেমন, ভাঙা খেলনা, ফাঁকা শিশি বা বোতল, পুরনো খবরের কাগজ, বহু পুরনো রেস্তরাঁর বিল, এই সবও নিজের কাছে আগলে রাখেন অনেকে।

পুরনো জিনিস ফেলতে মন চায় না?

পরিবারের কোনো একজনের এই সমস্যা দেখবেনই। অপ্রয়োজনীয়, বাতিল জিনিসও জমিয়ে রাখতে ভালবাসেন। সে পুরনো খবরের কাগজ হোক, কেটে যাওয়া বাল্ব, ছেঁড়া তার অথবা হোটেল-রেস্তঁরার পুরনো বিল। মূল্যহীন জিনিসপত্র যার কোনো প্রয়োজনই নেই, সেগুলিও রেখে দেন যত্ন করে। ফেলে দিতে গেলেই রাগ, অভিমান, রীতিমতো দক্ষযজ্ঞ বেঁধে যায়।

ধীরে ধীরে এই জমানো জিনিসের স্তূপ ঘরবাড়ি এমন ভাবে দখল করে নেয় যে, চারপাশটাই অগোছালো হয়ে ওঠে। পুরনো, বাতিল জিনিস জমানোর এই নেশাও কিন্তু এক প্রকার মানসিক সমস্যা, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘হোর্ডিং ডিজঅর্ডার বা ডিসপোসোফোবিয়া।

কী এই হোর্ডিং ডিজঅর্ডার?

শৌখিন জিনিস জমানোর নেশা অনেকেরই থাকে। হোর্ডিং ডিজঅর্ডার কিন্তু তার চেয়ে অনেক আলাদা। এক্ষেত্রে ভাঙাচোরা, পুরনো, বাতিল জিনিসপত্র নিজের কাছে আগলে রাখার একটা প্রবণতা তৈরি হয়। হোর্ডিং ডিজঅর্ডারে ভোগা লোকজন এমন জিনিসই রেখে দেন, যেগুলির আদৌ কোনো মূল্য নেই অথবা প্রয়োজন ফুরিয়েছে। তারা মনে করেন, এই সব জিনিসের সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে অথবা ভবিষ্যতে এগুলি আবারও কাজে আসতে পারে। শোয়ার ঘর, রান্নাঘর বা শৌচাগারেও এমনভাবে বাতিল বা পুরনো জিনিস জমিয়ে রাখতে পছন্দ করেন তারা। ফলে গোটা জায়গাই অগোছালো হয়ে থাকে।

আরও পড়ুনঃ এইডস সংক্রমণে নতুন রেকর্ড, গত এক বছরে আক্রান্ত ১৩ লাখ : ডব্লিউএইচও

এই রোগ কাদের হয়?

হোর্ডিং ডিজঅর্ডার কিছুটা বংশগত, জিনবাহিত হয়ে পরবর্তী প্রজন্মে পৌঁছোয়। তাছাড়া যারা খুব বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তারা পুরনো জিনিসপত্রও আঁকড়ে ধরে থাকতে চান। এমনও দেখা যায়, জমানো জিনিসের স্তূপে পোকামাকড় হলে বা সেই জায়গা অপরিষ্কার হলেও তারা পরিষ্কার করতে রাজি হন না। কেউ সেখানে হাত দিলে প্রচণ্ড রেগে যান। প্রবল মানসিক কষ্টে ভুগতে থাকেন। জমানো জিনিস যদি জোর করে ফেলে দেয়া হয়, তাহলে সেই সব মানুষের অ্যাংজাইটি অ্যাটাকও হতে পারে। গভীর অবসাদ দেখা দিতে পারে।

হোর্ডিং ডিজঅর্ডার কম বয়সেই দেখা দিতে পারে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লক্ষণগুলো আরও প্রকট হয়। বয়স্কদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। আবার যারা স্কিৎজোফ্রেনিয়া, অবসাদ বা উদ্বেগজনিত রোগে ভুগছেন, তাদের এমন হতে পারে।

চিকিৎসা কী?

হোর্ডিং ডিজঅর্ডারের চিকিৎসা বেশ সময়সাপেক্ষ। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তি মানতেই চান না যে, তার কোনো সমস্যা রয়েছে। হোর্ডিং ডিজঅর্ডার যদি মারাত্মক ভাবে বেড়ে যায়, তাহলে এর থেকে অবসাদ, ঘন ঘন প্যানিক অ্যাটাক হতে পারে।

এই রোগের সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা হলো কগনিটিভ বিহেভেরিয়াল থেরাপি। কাউন্সেলিং করে রোগীকে বোঝানো হয়। মানসিক চাপ ও উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণের কৌশলও শেখানো হয়। তাছাড়া ওষুধ দিয়েও চিকিৎসা হয়। তবে মনোবিদের কাছে যত দ্রুত যাওয়া যাবে, তত তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধান হবে।

মো. মাসুদুজ্জামান

বিষাক্ত বাতাসে বন্দি ঢাকা : যখন নিঃশ্বাস নেওয়াই ঝুঁকির কারণ

Previous article

কনফারেন্স–ইভেন্টে অংশগ্রহণ : উদ্যোক্তাদের ব্যবসা বিস্তারের স্মার্ট স্ট্র্যাটেজি

Next article

You may also like

Comments

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *