জাতীয়জীবনযাপন বিষাক্ত বাতাসে বন্দি ঢাকা : যখন নিঃশ্বাস নেওয়াই ঝুঁকির কারণ By নিজস্ব প্রতিবেদক January 4, 20261 ShareTweet 1 সকালের কুয়াশা আর ধোঁয়াশার পার্থক্য করা দায় হয়ে পড়েছে ঢাকার আকাশে। যে বাতাস জীবন বাঁচানোর কথা, সেই বাতাসই এখন ঢাকার দুই কোটি মানুষের জন্য নিরব ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার (IQAir)-এর তথ্যমতে, আজকেও ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে। ধোঁয়াশার চাদরে ঢাকা মেগাসিটি শীতের শুরু থেকেই ঢাকার বায়ুমান ‘অস্বাস্থ্যকর’ থেকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পর্যায়ে রয়েছে। নির্মাণাধীন প্রকল্পের ধুলা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া আর চারপাশের ইটভাটার কার্বন মিলে ঢাকাকে বানিয়ে তুলেছে একটি গ্যাস চেম্বার। বিশেষ করে ভোরে এবং রাতে বায়ুদূষণের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে, সুস্থ মানুষের পক্ষেও স্বাভাবিক শ্বাসক্রিয়া চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। জনস্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব চিকিৎসকদের মতে, এই বিষাক্ত বাতাস শুধু ফুসফুসের রোগ নয়, বরং হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে। শিশুদের ঝুঁকি: শিশুদের ফুসফুস পূর্ণ বিকশিত না হওয়ায় তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিউমোনিয়া এবং অ্যাজমার প্রকোপ ঘরে ঘরে বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি: একটানা এই বাতাসে শ্বাস নিলে মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৫ থেকে ৭ বছর কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতিতে জীবনযাপন: কী করবেন? দূষণ যেহেতু আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তাই ব্যক্তিগত সচেতনতাই এখন টিকে থাকার একমাত্র পথ। বিশেষজ্ঞ পরামর্শ অনুযায়ী নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা জরুরি: ১) মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক: সাধারণ কাপড়ের মাস্কের চেয়ে N95 বা KN95 মাস্ক ব্যবহার করুন। এটি সূক্ষ্ম ধূলিকণা (PM2.5) আটকাতে সক্ষম। ২) বাইরে যাওয়া সীমিত করুন: যখন দূষণের মাত্রা সর্বোচ্চ থাকে (বিশেষ করে ভোরে এবং সন্ধ্যায়), তখন ব্যায়াম বা হাঁটাচলার জন্য বাইরে না যাওয়াই ভালো। ৩) ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ রাখা: সম্ভব হলে ঘরে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন। ঘরে পর্যাপ্ত ইনডোর প্ল্যান্ট (যেমন: স্নেক প্ল্যান্ট, অ্যালোভেরা) রাখুন যা অক্সিজেন সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করে। ৪) খাদ্যাভ্যাস: প্রচুর পানি পান করুন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফলমূল ও শাকসবজি খান। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। ৫) পরিচ্ছন্নতা: বাইরে থেকে ফিরে হাত-মুখ ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন এবং সম্ভব হলে কুসুম গরম পানিতে গড়গড়া করুন। কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা কেবল ব্যক্তিগত সচেতনতায় এই সংকট দূর সম্ভব নয়। অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা, নির্মাণ এলাকায় নিয়মিত পানি ছিটানো এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এখন সময়ের দাবি। ঢাকা কি আবার সবুজে ঘেরা নির্মল বাতাসের শহর হবে, নাকি আমরা ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাব—এই প্রশ্ন এখন প্রতিটি নাগরিকের। মো. মাসুদুজ্জামান
ই-ক্যাব ইয়ুথ ফোরামের হাত ধরে শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটিতে যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে ই-কমার্স ক্লাবের February 8, 20231986 views