জীবনযাপনফ্যাশন শীতে ত্বকের পাওয়ারহাউস হায়ালুরোনিক অ্যাসিড By নিজস্ব প্রতিবেদক January 7, 20261 ShareTweet 1 শীতের সকালগুলো যেমন আরামদায়ক, আমাদের ত্বকের জন্য ঠিক ততটাই চ্যালেঞ্জিং। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে যখনই হিমেল হাওয়া কড়া নাড়তে শুরু করে, আমি ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্য করি আমার ত্বক ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে প্রাণহীন হয়ে পড়ছে। এই যে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে ত্বকের টানটান আর খসখসে ভাব—এটি কেবল একটি সমস্যা নয়, বরং আমাদের ত্বকের একটি সংকেত যে তার বাড়তি যত্নের প্রয়োজন। শীতকালীন এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমার সবচেয়ে বড় ভরসার নাম হায়ালুরোনিক অ্যাসিড। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে এটি যেমন বিজ্ঞানের এক আশীর্বাদ, আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় এটি ত্বকের জন্য একটি জাদুকরী ‘আদ্রতার আধার ‘। কেন আমি এই উপাদানটিকে শীতের রুটিনের প্রধান অংশ হিসেবে দেখি এবং কেন আপনারও এটি ব্যবহার করা উচিত—শীতের এই স্কিনকেয়ার সিক্রেট আর এর পেছনের জরুরি খুঁটিনাটি নিয়েই আমার আজকের এই আয়োজন। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড কী? হায়ালুরোনিক অ্যাসিড (এইচ এ) হলো একটি প্রাকৃতিক অণু যা আমাদের ত্বক, চোখ এবং সংযোগকারী টিস্যুতে পাওয়া যায়। এর প্রাথমিক কাজ হলো আর্দ্রতা বা হাইড্রেশন বজায় রাখা। এটি একটি স্পঞ্জের মতো কাজ করে, যা নিজের ওজনের চেয়ে ১,০০০ গুণ বেশি জল ধরে রাখতে পারে। এই অনন্য ক্ষমতা ত্বককে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, যার ফলে ত্বক কোমল, মসৃণ এবং সজীব থাকে। শীতকালে যখন বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা কমে যায় এবং ত্বক দ্রুত আর্দ্রতা হারায়, তখন হায়ালুরোনিক অ্যাসিড বিশেষভাবে উপকারী। শীতকালীন ত্বকের সুস্বাস্থ্যে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড যেভাবে সাহায্য করে ঠাণ্ডা তাপমাত্রা এবং ঘরের ভেতরের হিটার ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতার স্তরকে ব্যাহত করতে পারে, যার ফলে ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড বাতাস থেকে আর্দ্রতা টেনে নিয়ে আপনার ত্বকে পৌঁছে দেয় এবং সারা দিন তা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে ত্বক হয় আরও নরম ও নমনীয়, যা শীতের রুক্ষতা সহ্য করার ক্ষমতা রাখে। তবে আরও সুবিধা হল হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকের ইলাস্টিসিটি বাড়াতে সাহায্য করে। এতে করে সূক্ষ্ম রেখা এবং বলিরেখা কমে যায়, যা সাধারণত ত্বক শুষ্ক থাকলে বেশি দৃশ্যমান হয়। এটি একা ব্যবহার করা হোক বা ময়েশ্চারাইজারের সাথে মিলিয়ে, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড আপনার ত্বককে সবচেয়ে প্রতিকূল শীতকালেও সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখে। আপনার শীতকালীন রুটিনে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড যুক্ত করার উপায় আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, স্কিনকেয়ার মানে কেবল দামী পণ্যের ব্যবহার নয়, বরং এটি নিজের যত্ন নেওয়ার একটি মাধ্যম। কৃত্রিম উজ্জ্বলতা সাময়িক, কিন্তু ত্বকের অভ্যন্তরীণ সুস্থতা বা ‘হেলদি স্কিন’ চিরস্থায়ী। মেকআপের আড়ালে ত্বককে ঢেকে না রেখে বরং তাকে সঠিক পুষ্টি ও আর্দ্রতা দিয়ে ভেতর থেকে সজীব করে তোলাকে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। আপনার স্কিনকেয়ার রুটিনে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড যোগ করা খুব সহজ। শীতকালীন পাওয়ারহাউসের প্রতিটি ফোঁটাকে কীভাবে কাজে লাগিয়ে কাঙ্ক্ষিত উজ্জ্বলতা পাবেন, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের সেই গোপন মন্ত্রগুলোই আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি— ভেজা ত্বকে ব্যবহার করুন: সর্বোচ্চ কার্যকারিতার জন্য, সামান্য ভেজা ত্বকে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ব্যবহার করুন। এটি অ্যাসিডটিকে ত্বকের গভীর স্তর থেকে জল টেনে নেওয়ার পরিবর্তে ত্বকের উপরিভাগ থেকে জল শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাইড্রেশন আরও বাড়ায়। আরও পড়ুনঃ ২০২৬-এর উদ্যোক্তা : গতির চেয়ে সঠিক পথই যখন আসল চ্যালেঞ্জ ময়েশ্চারাইজারের সাথে লেয়ার করুন: হায়ালুরোনিক অ্যাসিড লাগানোর পর আর্দ্রতা ধরে রাখতে একটি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এই সমন্বয়টি একটি সুরক্ষাকবচ তৈরি করে যা শীতের শুষ্কতা থেকে ত্বককে রক্ষা করে। উপযুক্ত পণ্যটি বেছে নিন: হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম থেকে শুরু করে ক্রিম—বিভিন্ন আকারে পাওয়া যায়। একটি সিরামে সাধারণত হায়ালুরোনিক এসিড -এর ঘনত্ব বেশি থাকে, যা গভীর হাইড্রেশনের জন্য আদর্শ। আর পুরো মুখে ময়েশ্চারাইজেশনের জন্য আপনার ত্বকের ধরণ অনুযায়ী এইচএ সমৃদ্ধ ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। প্রো-টিপ হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম লাগানোর পর যদি সম্ভব হয় একটি ‘ফেস মিস্ট’ বা গোলাপ জল স্প্রে করে নিন। এতে অ্যাসিডটি বাতাস থেকে আরও বেশি জলকণা টেনে নিতে পারবে এবং আপনার ত্বক দীর্ঘক্ষণ সতেজ থাকবে। সাধারণ কিছু ভুল ভুল ব্যবহারের কারণে অনেক সময় উল্টো ফল হয়। এটি সচেতনতা বাড়াবে- শুষ্ক ত্বকে ব্যবহার করা: একদম শুকনো মুখে এটি লাগালে এটি ত্বকের ভেতর থেকেই জল টেনে নেয়, ফলে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। শুধু সিরাম লাগানো: সিরামের ওপর ময়েশ্চারাইজার না লাগালে আর্দ্রতা বাতাসে উড়ে যায়। ভেতর থেকে হাইড্রেশন ত্বকের ওপরের যত্নের পাশাপাশি ভেতর থেকেও নিজেকে হাইড্রেটেড রাখা প্রয়োজন। শীতকালে প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন এবং ডায়েটে সাইট্রাস জাতীয় ফল (লেবু, কমলা), বাদাম ও শাকসবজি রাখার চেষ্টা করুন। এগুলো ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে এবং হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা কেন শীতকালে হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের পরামর্শ দেন? চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের কাছে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড শীতকালীন স্কিনকেয়ারের জন্য একটি বিশ্বস্ত উপাদান কারণ এর কার্যকারিতা প্রমাণিত। পাবমেড–এ প্রকাশিত একাধিক ক্লিনিকাল গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিয়মিত হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা বৃদ্ধি পায় এবং শুষ্কতা ও রুক্ষতা কমে যায়—যা কম আর্দ্রতার পরিবেশে, যেমন শীতকালে, ত্বকের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। ত্বক যখন পর্যাপ্ত হাইড্রেটেড থাকে, তখন এটি আরও টানটান বা ‘প্লাম্প’ দেখায়। এর ফলে মুখের সূক্ষ্ম রেখা এবং বলিরেখাগুলো কম দৃশ্যমান হয়। ভারী ময়েশ্চারাইজার যা কখনও কখনও লোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে, তার বিপরীতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড অত্যন্ত হালকা, নন-কমেডোজেনিক এবং সব ধরণের ত্বকের জন্য উপযুক্ত। এটি সংবেদনশীল ত্বকের জন্য যেমন মৃদু, তেমনি শীতের রুক্ষতম ত্বকের আর্দ্রতার চাহিদা মেটাতেও সমান শক্তিশালী। আপনার শীতের রুটিনে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আপনি আপনার ত্বককে সেই প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দিচ্ছেন যা ত্বককে কোমল ও সজীব রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে এটি ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষস্তরকেও শক্তিশালী করে, যা শীতকালীন প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য অত্যাবশ্যক। জয়া মাহবুব
শরতের ছোঁয়ায় ত্বকের যত্ন : সহজ কিছু উপায়ে ত্বক থাকুক প্রাণবন্ত – জয়া মাহবুব October 7, 2025201 views
ই-ক্যাব ইয়ুথ ফোরামের হাত ধরে শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটিতে যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে ই-কমার্স ক্লাবের February 8, 20231986 views