ব্যবসা-বাণিজ্য শুধু ডিসকাউন্টে নয়, বুদ্ধিদীপ্ত অফারেই জয় রমজান ব্যবসায় By নিজস্ব প্রতিবেদক 19 hours ago0 ShareTweet 0 রমজান শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় মাস নয়; এটি একই সঙ্গে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বাজারগত গতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই মাসে ভোক্তার আচরণ, বাজারের চাহিদা, ব্যবসায়িক কৌশল সবকিছুই বদলে যায়। তাই রমজানকে যদি উদ্যোক্তারা কেবল “বিক্রির মৌসুম” হিসেবে দেখেন, তবে তারা সুযোগের অর্ধেকই ব্যবহার করতে পারবেন। বাস্তবে এটি এমন একটি সময়, যখন অফার, বান্ডেল ডিল এবং ব্র্যান্ড কৌশল সবকিছুকে নতুনভাবে চিন্তা করতে হয়। বাংলাদেশের বাজার বাস্তবতায় দেখা যায়, রমজানে পণ্যের চাহিদা বাড়লেও ভোক্তার ব্যয় করার সক্ষমতা সবসময় সমানভাবে বাড়ে না। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মানুষ এখন আগের চেয়ে বেশি হিসাবি। তারা অপ্রয়োজনীয় পণ্য বাদ দিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসে সীমাবদ্ধ থাকছে। ফলে ব্যবসায়ীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো—কীভাবে কম খরচে বেশি মূল্যবোধের অফার তৈরি করা যায়। এই বাস্তবতায় সাধারণ ডিসকাউন্ট আর কার্যকর একমাত্র কৌশল নয়; বরং প্রয়োজন হচ্ছে স্মার্ট ভ্যালু-ড্রিভেন অফার। রমজান বাজারে মূল্যস্ফীতি একটি নির্ধারক উপাদান। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি ভোক্তার মানসিকতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। তখন ক্রেতা কম দামের পণ্য নয়, বরং যুক্তিসঙ্গত দামে সর্বোচ্চ সুবিধা খোঁজে। অর্থাৎ তারা এমন অফার চায় যেখানে একই সঙ্গে সাশ্রয়, সুবিধা এবং প্রয়োজনের সমাধান থাকবে। এই জায়গায় বান্ডেল ডিল একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে সামনে আসে। যখন একটি পরিবার একসাথে সেহরি, ইফতার, ঈদ প্রস্তুতি এবং উপহার কেনাকাটা করতে চায়, তখন আলাদা আলাদা কেনার চেয়ে একত্রে সাজানো প্যাক তাদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়। আরও পড়ুনঃ স্বপ্ন নয়, ডেটা বলছে—অভিজ্ঞতাই উদ্যোক্তার সবচেয়ে বড় পুঁজি বাংলাদেশে ডিজিটাল বাজারের বিস্তার রমজানের অফার কৌশলকে আরও বদলে দিয়েছে। এখন ক্রেতারা দোকানে যাওয়ার আগে অনলাইনে দাম যাচাই করে, তুলনা করে, রিভিউ পড়ে। ফলে অফার শুধু ঘোষণা করলেই হবে না—তার বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করতে হবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে স্পষ্ট মূল্য, সীমিত সময়ের ডিল এবং দ্রুত ডেলিভারি—এই তিনটি বিষয় এখন সফল অফারের মূল ভিত্তি। রমজানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতাও অফার কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই মাসে দান, সহমর্মিতা ও পারিবারিক সংযোগের মূল্য বাড়ে। তাই যে অফার মানুষের এই আবেগকে স্পর্শ করতে পারে, সেটিই বেশি সফল হয়। উদাহরণস্বরূপ, “একটি কিনলে একটি দান” ধরনের উদ্যোগ শুধু বিক্রি বাড়ায় না, ব্র্যান্ডের প্রতি আবেগও তৈরি করে। ব্যবসা তখন কেবল লেনদেন থাকে না; এটি হয়ে ওঠে সম্পর্কের অংশ। বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য এখানেই মূল শিক্ষা। রমজান অফার মানে শুধু দাম কমানো নয়, বরং সমস্যা সমাধান করা। যে উদ্যোক্তা বুঝতে পারবেন ক্রেতার বাস্তব সমস্যা কী, সময় সংকট, বাজেট সীমাবদ্ধতা, একসাথে কেনার সুবিধা এবং সেই অনুযায়ী অফার ডিজাইন করবেন, তিনিই বাজারে এগিয়ে থাকবেন। অন্যদিকে যারা কেবল প্রচলিত ডিসকাউন্টে সীমাবদ্ধ থাকবেন, তারা হয়তো সাময়িক বিক্রি পাবেন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ব্র্যান্ড শক্তি তৈরি করতে পারবেন না। অতএব বলা যায়, বাংলাদেশে রমজান স্পেশাল অফার একটি সমন্বিত কৌশলগত প্রক্রিয়া, যেখানে অর্থনৈতিক বাস্তবতা, ভোক্তার মনস্তত্ত্ব এবং সামাজিক মূল্যবোধ এই তিনটি স্তম্ভ একসাথে কাজ করে। এই তিনটির ভারসাম্য রক্ষা করতে পারলেই রমজান উদ্যোক্তার জন্য শুধু বিক্রির মাস নয়, বরং ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার সেরা সময়ে পরিণত হয়। এলিন মাহবুব
ই-ক্যাব ইয়ুথ ফোরামের হাত ধরে শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটিতে যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে ই-কমার্স ক্লাবের February 8, 20232008 views