উদ্যোক্তার গল্পদেশি উদ্যোক্তা

২০২৬-এর উদ্যোক্তা : গতির চেয়ে সঠিক পথই যখন আসল চ্যালেঞ্জ

1
j2

নতুন বছরের শুরুতে আমরা সাধারণত রঙিন স্বপ্নের ফর্দ বানাই। বড় বিনিয়োগ, নতুন বাজার আর আকাশছোঁয়া মুনাফা—এসবই থাকে আমাদের ভাবনার কেন্দ্রে। কিন্তু ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বাস্তব চিত্রটি একটু ভিন্ন। ক্যালেন্ডারের এই পাতাটি আমাদের সামনে কেবল ‘স্বপ্নের বছর’ হিসেবে আসেনি, বরং এসেছে ‘সিদ্ধান্তের বছর’ হিসেবে। বিশেষ করে যারা ব্যবসার হাল ধরে আছেন, সেই উদ্যোক্তাদের জন্য এটি এক কঠিন পরীক্ষার সময়।

গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে যে, অনিশ্চয়তা এখন আর কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়; এটিই বর্তমানের ধ্রুব সত্য। প্রযুক্তির অভাবনীয় উত্থান, ভোক্তাদের রুচির দ্রুত পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতা—সব মিলিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার সংজ্ঞা বদলে গেছে। এখন উদ্যোক্তা হওয়া মানে কেবল ঝুঁকি নেওয়া নয়; বরং চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস দেখানো।

২০২৬ সালে একজন উদ্যোক্তার সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো—আমরা কি কেবল হিসাবের খাতার দৈর্ঘ্য বাড়াতে চাই, নাকি এমন কিছু গড়তে চাই যা সময়ের বিবর্তনে টিকে থাকবে?

আজকের বাজারে কেবল সেই ব্যবসাগুলোই টিকে থাকবে যারা পণ্য বিক্রির চেয়ে ‘আস্থা’ তৈরিতে বেশি বিনিয়োগ করবে। কর্মীদের নিরাপত্তা, গ্রাহকের সন্তুষ্টি এবং পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা—এগুলো এখন আর শৌখিন শব্দ নয়, বরং ব্যবসার অপরিহার্য অংশ। স্বল্পমেয়াদি লাভের মোহ ত্যাগ করে যারা দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবোধে বিনিয়োগ করবে, শেষ পর্যন্ত তারাই জয়ী হবে।

আরও পড়ুনঃ শীতে ত্বকের নীরব সংকেত : সংবেদনশীল ত্বক বুঝে যত্ন নিন – জয়া মাহবুব

একজন উদ্যোক্তার সিদ্ধান্ত এখন আর তাঁর ব্যক্তিগত চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে প্রতিটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত একটি বৃহত্তর ‘ইকোসিস্টেম’ প্রভাবিত করে। আপনার একটি সঠিক সিদ্ধান্ত যেমন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখে, তেমনি একটি ভুল বা স্বার্থপর সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাজের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই আজকের উদ্যোক্তা কেবল একজন ব্যবসায়ী নন, তিনি একজন সামাজিক স্থপতিও বটে।

অনেকে মনে করেন এ বছরে বড় চ্যালেঞ্জ হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা পুঁজির সংকট। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো—সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি হবে ‘নৈতিক সাহসিকতা’। প্রথমত, স্রোতে গা না ভাসিয়ে কখন ‘না’ বলতে হয়, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া। দ্বিতীয়ত,অন্ধের মতো ট্রেন্ড অনুসরণ না করে নিজস্ব অবস্থানে অটল থাকা। তৃতীয়ত আমি মনে করি, ক্ষিপ্র গতির চেয়ে সঠিক পথে ধীরস্থিরভাবে এগোনোর ধৈর্য ধারণ করা। এই গুণগুলোই ২০২৬ সালে একজন সফল উদ্যোক্তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করবে।

২০২৬ আমাদের বলছে: স্বপ্ন দেখুন, কিন্তু সেই স্বপ্নের ভার বইবার মতো দায়িত্বশীল হোন। দ্রুত বড় হওয়া বা ইউনিকর্ন হওয়ার ইঁদুর দৌড়ে শামিল না হয়ে, ‘সঠিকভাবে’ বড় হওয়াটাই হোক এ বছরের মূলমন্ত্র।

নতুন বছরে উদ্যোক্তাদের প্রতি আমার আহ্বান—আপনার লাভ যেন কেবল ব্যাংকের ব্যালেন্সেই সীমাবদ্ধ না থাকে, তা যেন প্রতিফলিত হয় একটি সুন্দর ও টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণেও। মনে রাখবেন, গতির চেয়ে সঠিক দিকনির্দেশনাই এখন আসল সাফল্য।

জয়া মাহবুব

কনফারেন্স–ইভেন্টে অংশগ্রহণ : উদ্যোক্তাদের ব্যবসা বিস্তারের স্মার্ট স্ট্র্যাটেজি

Previous article

শীতে ত্বকের পাওয়ারহাউস হায়ালুরোনিক অ্যাসিড 

Next article

You may also like

1 Comment

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *