জীবনযাপন

৯০ সেকেন্ডের সাইলেন্ট টেকনিক : বদলে যাবে আপনার সম্পর্কের রসায়ন

1
j1 1

আজকের ব্যস্ত জীবনে, যেখানে নোটিফিকেশন আর মাল্টিটাস্কিংয়ের ভিড়ে আমাদের মনোযোগ হারিয়ে যাচ্ছে, সেখানে কাউকে পূর্ণ সময় দেওয়া এখন একটি বিরল ক্ষমতা। আমরা প্রায়ই মনে করি, মানুষের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি করতে হলে সর্বদা সক্রিয় থাকতে হবে। কিন্তু আধুনিক মনোবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা—মাত্র ৯০ সেকেন্ডের একটি গভীর মনোযোগের খণ্ডকাল আপনার সম্পর্ককে বদলে দিতে পারে জাদুর মতো।

কেন মাত্র ৯০ সেকেন্ড?
মনোবিজ্ঞানী এবং কমিউনিকেশন এক্সপার্টদের মতে, ৯০ সেকেন্ড যথেষ্ট দীর্ঘ সময় যাতে কেউ সত্যিই অনুভব করে যে তাকে দেখা এবং শোনা হচ্ছে, কিন্তু এটি এত দীর্ঘ নয় যাতে মুহূর্তটি অস্বাভাবিক মনে হয়। এই সময়ের মূল মন্ত্র হলো এক্টিভ লিসেনিং। ফোন দেখা নয় বা মনে মনে পরবর্তী উত্তরের পরিকল্পনা করা নয়; বরং পুরো মন দিয়ে শুধু অন্য ব্যক্তির কথার প্রতি মনোযোগ দেওয়া।

গবেষণার চমকপ্রদ ফলাফল

২০১৪ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব লিসেনিং-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, সংক্ষিপ্ত সময়ের গভীর মনোযোগও সম্পর্কের গুণমান অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। গবেষকরা দেখেছেন, এই অল্প সময়ের মনোযোগও বক্তার আবেগগত সিস্টেমে অসাধারণ প্রভাব ফেলে। মস্তিষ্ক একে অত্যন্ত সম্মানজনক হিসেবে গ্রহণ করে এবং এর ফলে উভয়ের মস্তিষ্কে ‘অক্সিটোসিন’ বা বন্ডিং হরমোন নিঃসরিত হয়। এর মাধ্যমে আপনি নিঃশব্দে বুঝিয়ে দেন—“আপনি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।”

নিজের প্রশান্তির এক ‘নিউরোলজিক্যাল থেরাপি’

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ৯০ সেকেন্ডের মনোযোগ কেবল অন্যের জন্য উপহার নয়, এটি আপনার নিজের শরীরের জন্যও একটি দারুণ চিকিৎসা। সোশ্যাল কগনিটিভ অ্যান্ড অ্যাফেক্টিভ নিউরোসায়েন্স  জার্নালে প্রকাশিত হার্ভার্ডের গবেষকদের একটি স্টাডি থেকে জানা যায়, আমরা যখন অন্যকে গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করি, তখন আমাদের মস্তিষ্কের আনন্দদায়ক অংশগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে।

সহজ কথায় বললে, যখন আপনি কাউকে মন দিয়ে শোনেন, তখন আপনার মস্তিষ্কে ‘ফিল গুড’ বা ভালো লাগার হরমোন তৈরি হয়। এটি আপনার শরীরের রক্তচাপ কমায় এবং দুশ্চিন্তা তৈরির হরমোন ‘কর্টিসল’-কে কমিয়ে মনকে শান্ত করে দেয়। অর্থাৎ, অন্যকে গুরুত্ব দিয়ে আপনি আসলে নিজের হার্ট এবং মন ভালো রাখার একটি প্রাকৃতিক ওষুধ গ্রহণ করছেন।

আরও পড়ুনঃ শীতে ত্বকের পাওয়ারহাউস হায়ালুরোনিক অ্যাসিড

৯০ সেকেন্ডের জাদু ব্যবহারের উপায়

ব্যক্তিগত জীবনে: কেউ কথা বলা শুরু করলে অন্তত ৯০ সেকেন্ড কোনো বাধা ছাড়াই শুনুন। এটি কেবল সময় দেওয়া নয়, বরং আন্তরিক যত্নের প্রকাশ। যেমনঃ আপনার শিশু যখন কিছু বলতে আসে, নিচু হয়ে তার চোখের লেভেলে এসে ৯০ সেকেন্ড কথা শুনুন। সন্তানের আত্মবিশ্বাস ও আপনার প্রতি ভরসা বাড়বে।

কাজের ক্ষেত্রে: মিটিং বা আলোচনার শুরুতে প্রথম ৯০ সেকেন্ড সহকর্মীর বক্তব্য বোঝার চেষ্টা করুন। এটি আপনার নেতৃত্বের ক্যারিশমাকে বাড়িয়ে দেবে।

পারিবারিক বন্ধনে: খাবার টেবিলে বা ঘরে ফেরার পর প্রথম ৯০ সেকেন্ড ফোন সরিয়ে রেখে পরিবারের সদস্যদের কথা শুনুন।

আপনার জন্য আজকের চ্যালেঞ্জ 

আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য আপনার প্রতি একটি চ্যালেঞ্জ রইলো:

আপনার পরিচিত অন্তত ৩ জন মানুষের সাথে এটি প্রয়োগ করুন। যখন তারা কথা বলবে, আপনি মনে মনে ৯০ সেকেন্ড গুনুন। এই সময়ে-

১) আপনার ফোনটি পকেটে বা ব্যাগে রাখুন।

২) সরাসরি চোখের দিকে তাকিয়ে শুনুন।

৩) কোনো প্রকার উপদেশ দেবেন না বা নিজের গল্প শুরু করবেন না।

দেখুন তো তাদের হাসিতে বা চোখের ভাষায় কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করেন কি না! আপনার এই ছোট্ট বিনিয়োগটিই হতে পারে তাদের কাছে আজকের দিনের সেরা উপহার।

সত্যিকারের সংযোগ তৈরি করতে খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন হয় শুধু সদিচ্ছার ছোট একটি মুহূর্তের।

জয়া মাহবুব

জলবায়ু পরিবর্তনের মুখে টিকে থাকার লড়াইয়ে বাংলাদেশ

Previous article

স্বপ্ন নয়, ডেটা বলছে—অভিজ্ঞতাই উদ্যোক্তার সবচেয়ে বড় পুঁজি

Next article

You may also like

1 Comment

  1. […] আরও পড়ুনঃ ৯০ সেকেন্ডের সাইলেন্ট টেকনিক : বদলে যা… […]

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *