তথ্য ও প্রযুক্তিমোবাইল

অতিরিক্ত চার্জে রাখলে যে ক্ষতি হতে পারে মোবাইল ফোনের 

0
m1

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ স্মার্টফোন। কাজ, যোগাযোগ থেকে শুরু করে বিনোদন- সবকিছুই নির্ভর করে এই ছোট ডিভাইসটির ওপর। তবে ব্যবহার করতে গিয়েই অনেকেই করে বসেন একটি সাধারণ ভুল- প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় ফোন চার্জে লাগিয়ে রাখেন।

অনেকেরই ধারণা, ফোন সবসময় ১০০ শতাংশ চার্জে রাখাই ভালো। তাই রাতে ঘুমানোর আগে চার্জে দিয়ে সকালে খুলে নেওয়া যেন এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে ফোনের ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

ব্যাটারির আয়ু কমে যায়

বর্তমান স্মার্টফোনে ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি দীর্ঘ সময় ১০০ শতাংশ চার্জে থাকলে ধীরে ধীরে এর সক্ষমতা কমতে থাকে। ফলে কিছুদিন পরই দেখা যায়, আগের মতো চার্জ ধরে রাখতে পারছে না ফোন।

অতিরিক্ত তাপের ঝুঁকি

দীর্ঘ সময় চার্জে থাকলে ব্যাটারির ভেতরে তাপ তৈরি হয়। আধুনিক ফোনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও বারবার এমন হলে ব্যাটারির ভেতরের উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ গরমে ইলেকট্রনিক ডিভাইস যাতে বিস্ফোরিত না হয় তার জন্য করণীয়

ব্যাটারি ফুলে যাওয়ার সম্ভাবনা

অতিরিক্ত চার্জিংয়ের অভ্যাস দীর্ঘদিন চলতে থাকলে ব্যাটারি ফুলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে শুধু পারফরম্যান্সই কমে না, ডিভাইসের কাঠামোগত ক্ষতিও হতে পারে— যেমন ব্যাক কভার উঁচু হয়ে যাওয়া বা স্ক্রিন সরে যাওয়া।

দ্রুত শেষ হয় চার্জিং সাইকেল

প্রতিটি ব্যাটারির একটি নির্দিষ্ট চার্জিং সাইকেল থাকে। নিয়মিত অতিরিক্ত চার্জ দিলে এই সাইকেল দ্রুত শেষ হয়ে যায়, ফলে ব্যাটারি দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে।

রয়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকিও

নিম্নমানের চার্জার ব্যবহার বা বালিশ-কম্বলের নিচে ফোন রেখে চার্জ দিলে অতিরিক্ত গরম হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যদিও এমন ঘটনা বিরল, তবুও সতর্ক থাকা জরুরি।

ব্যাটারি ভালো রাখতে কী করবেন

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে— চার্জ ২০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে রাখা ভালো। অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় চার্জে রাখা এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়া সবসময় মানসম্মত চার্জার ব্যবহার করা নিরাপদ।

স্মার্টফোনের আয়ু অনেকটাই নির্ভর করে ব্যবহারকারীর অভ্যাসের ওপর। ছোট কিছু পরিবর্তনেই আপনি আপনার ডিভাইসকে রাখতে পারেন দীর্ঘদিন সচল ও নিরাপদ।

-মাসুদুজ্জামান রাসেল

উদ্ভাবনের নতুন রসায়ন : পণ্যকে অর্থবহ করতে কেন প্রয়োজন ‘কগনিটিভ ফ্রিকশন’

Previous article

মিল্ক ভিটা থেকে বিশ্ববাজার : এক জেলা এক পণ্য মডেলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের রপ্তানি বিপ্লব

Next article

You may also like

Comments

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *