ফ্যাশন ফ্যাশন হোক হেমন্তের সাথে By নিজস্ব প্রতিবেদক November 1, 20230 ShareTweet 0 হেমন্তের রয়েছে বিবিধ মোহনীয় বৈশিষ্ট্য। আবহমান বাংলার চিরায়ত এক ঋতু হলো হেমন্ত। বিশেষ করে হেমন্তকে প্রথমেই অর্থকরী ঋতু হিসেবে চিত্রিত করা যায়। কেননা সারা বাংলার কৃষিকর্মে হেমন্তের যে প্রভাব রয়েছে, সেটাকে উপজীব্য করে বলা যায় যে- হেমন্ত মানে ফসলের ঋতু। নতুন ধান ঘরে তোলার ঋতু। নতুন চালের পিঠা, ক্ষীর-পায়েসের ঋতু। নতুন বউয়ের মুক্তোর নাকফুলের মতো জ্বলজ্বলে ছবির সঙ্গে হেমন্তের তুলনা করা চলে। সারা বাংলার মাঠে প্রান্তরে ফসল কাটার ধুম পড়ে যায় হেমন্ত এলেই। এরপর ধান কেটে গেরস্থের বাড়িতে বাড়িতে চলে কৃষাণ-কৃষাণিদের ধান মাড়াই, ধান সেদ্ধ করার মহাউৎসব। তাই বলা চলে গ্রামীণ জীবনধারায় হেমন্তের প্রভাব এতোটাই বিস্তৃত যে- যার ছাপ পড়ে সমগ্র গ্রামীণ জনপদে। গ্রামীণ এই জীবন ধারায় যেমন হেমন্ত আসে বর্ণোজ্জ্বল পদবিক্ষেপে। তেমনি নগর জীবনেও হেমন্তের ছাপ পরিলক্ষিত হতে দেখা যায় ফ্যাশন ট্রেন্ডে। মানুষ একটা সময় তাদের পছন্দের জামা-কাপড় তৈরি করতেন দর্জির দোকান থেকে। পাশাপাশি বাংলার এক চিরন্তন রূপ ছিলো সাপ্তাহিক হাটবার দিন। সপ্তাহে দু’দিন কিংবা একদিনের সেই হাটবারে নানা পণ্যের সঙ্গে থাকতো তৈরি পোশাক-আশাক এবং শাড়ি, লুঙ্গিসহ নানা পোশাকের সমাহার। গ্রামের হাটে হাটে বড়দের পাশাপাশি শিশুদের জামা, প্যান্ট বিক্রি হতো। কোথাও কোথাও এখনো হয়। তবে তা খুবই হাতে গোনা। জীবনযাত্রার মান বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ধারাতেও পরিবর্তন হয়েছে ধীরে ধীরে। আধুনিকতার যুগে বাংলাদেশ আজ অন্যতম এক ডিজিটাল কান্ট্রি হিসেবে রয়েছে শীর্ষ সারির তালিকায়। ফলে গ্রাম এবং শহর আজ মিলেমিশে একাকার। মানুষের মধ্যে ফারাক খোঁজার সুযোগটুকু গেছে হারিয়ে। সবার মধ্যে এসেছে রুচির এক নান্দনিক ছোঁয়া। এই নান্দনিকতা জীবনবোধের সঙ্গে বদলে দিয়েছে সকল দৈনন্দিন ধারা। যার মধ্যে অন্যতম হলো পোশাক-পরিচ্ছেদ। হাটবারের ওপর নিম্নবিত্তরা কখনো মধ্যবিত্তরাও ছিলো নির্ভরশীল। কিংবা দর্জি দোকানমুখী সেই পুরো প্রবাহটাই হয়ে উঠেছে শহরমুখী। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্তসহ সকল শ্রেণির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি- ড্রেসকে শিল্পময় করে তোলার লক্ষ্যে ’৮০-র দশকের শুরুতে ফ্যাশন ধারার অভিষেক ঘটে ঢাকার তরুণ প্রজন্মকে বেইস্ করে। আরও পড়ুনঃ ঐশ্বরিয়া, আরাধ্য আর কেন্ডাল প্যারিস ফ্যাশন উইকে ভাইরাল তবে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ফ্যাশন ট্রেন্ডের সূচনা ঘটায় ‘আড়ং’। সেই ‘আড়ং’ এর পথচলা বিশাল এক আভিজাত্য নিয়ে। আজও সারা বাংলাদেশে তাদের অসংখ্য আউটলেটের মধ্য দিয়ে ফ্যাশন সচেতন বাঙালিকে রুচি বদলের কাজটি করে যাচ্ছে অমিয় শিল্পিত রূপে। আশির দশকের শুরুতে ফ্যাশন ধারার রূপবদলের সূচনা হলেও মূলত নব্বইয়ের দশকে এসে লাভ করে পূর্ণতা। এই পূর্ণতার পথ কাব্যিক ঘরানার পোশাকেও একটি ভিন্নমাত্রার অর্থকরী অধ্যায়ের প্ল্যাটফর্ম তৈরির অবকাশ সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়। তারই রূপবৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া যায় এই মাধ্যমে। শার্ট, প্যান্ট, শাড়ি, থ্রিপিস থেকে শুরু করে বাচ্চাদের জামা-প্যান্টসহ নানারকম ড্রেস কালেকশানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এখন বিভিন্ন আউটলেট। এই ড্রেসের মধ্যে অন্যতম একটি অনুষঙ্গ হলো টি-শার্ট। টি-শার্টের কনসেপ্টকে আধুনিকতার রূপে সবার আগে বাজারজাত করে দেশের অন্যতম ফ্যাশন হাউস ‘প্লাস পয়েন্ট’। টিকাটুলির রাজধানী সুপার মার্কেটের কাছের একটি ভবনে ছোট একটি শোরুম দিয়ে প্লাসপয়েন্টের অভিযাত্রা সূচিত হয় ২০০৩ সালে। সারাদেশে আজ প্লাসপয়েন্টের রয়েছে প্রায় ২৫টির মতো শো-রুম। এই প্লাসপয়েন্টের রূপকার হলেন ফ্যাশন ডিজাইনার বিপুল ইসলাম। প্লাস পয়েন্টের পাশাপাশি ইজি ফ্যাশন হাউজসহ আজিজ সুপার মার্কেট টি-শার্টের শো-রুম দিয়ে টি-শার্ট সংগ্রহের কেন্দ্র হয়ে ওঠার গল্পটা এখন এতটাই বিস্তৃত যে, বইয়ের আজিজ সুপার মার্কেট আজ ড্রেসের মার্কেটে রূপান্তরিত হয়েছে। এই ফ্যাশন মার্কেটের আউটলেটগুলোতে টি-শার্ট, শাড়ি, থ্রিপিস থেকে শুরু করে রয়েছে সবধরনের ড্রেস। এই মার্কেটের ক্রেতাদের বৃহৎ একটি অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টসহ ঢাকার টিন্এজরা। তরুণদেরকে টি-শার্টমুখী করার লক্ষে টি-শার্টকে এক পর্যায়ে ক্যানভাসে রূপায়িত করে তোলা হয়। অর্থাৎ টি-শার্টের বুকেপিঠে কবিতার পঙ্ক্তিসহ প্রখ্যাত কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও টিভি পারফর্মারদের মুখচ্ছবি ল্যান্ডস্কেপের আঁকা ছবির টি-শার্ট সাশ্রয়ী মূল্যে তরুণদের কাছে তুলে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে সেই ধারাটি আজ এক সমুদ্রের মতো বিশালত্ব অর্জনেও সক্ষম হয়ে উঠেছে। টি-শার্টকে শিল্পের ক্যানভাস করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখে ‘নিত্য উপহার’। আউটলেটের কর্ণধার ও ফ্যাশন ডিজাইনার বাহার রহমান। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ছিলো যে টি-শার্টের সূতিকাগার। তা আজ ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। ছয় ঋতু, ১লা বৈশাখ, ঈদ, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি, বইমেলাকে উপজীব্য করে নানা ধরনের ড্রেস তৈরির প্রেক্ষাপটে সারা বাংলায় ফ্যাশন ধারার এই উত্থান দেশীয় অর্থনীতিতেও রাখছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। প্রকৃতির এই রূপপ্রবাহের পথ বেয়ে ফ্যাশন ভুবন যে ডাইমেনশনাল স্ট্যাটাস অর্জন করেছে-তা এক কথায় অবিস্মরণীয়। ঋতুচক্রের এই ঘূর্ণায়মান প্রাত্যহিক জীবনের ছন্দকে স্পন্দিত করে তুলতে হাওয়ায় হাওয়ায় বেজে চলেছে হেমন্তের সিম্ফনি। হেমন্তকে অনেক উপমাতেই ভূষিত করা যায়। বিশেষত কৃষি জীবনধারার পাশাপাশি বর্ণময় ঋতু হিসেবেও রয়েছে হেমন্তের বহুমাত্রিক আবহ। রঙতুলির আঁচড়ে যেমন হেমন্ত হয়ে ওঠে শিল্পের এক অনবদ্য চিত্রকথার প্রান্তর। একইভাবে এক কাব্যিক ঋতু হিসেবেও রয়েছে হেমন্তের অবিনশ্বর ভালো লাগা। চলতি হেমন্তেও ফ্যাশন ট্রেন্ডে ভিন্ন রূপের পোশাকে আবর্তিত হবে নগর ও গ্রামীণ জনপদের ধারা। বিশেষ করে ফ্যাশনে এই হেমন্ত রৌদ্রর তাঁতে বোনা রুমালের মতো সিক্ত করবে তার মনোমুগ্ধ আবেশের নয়নাজুলি।
ই-ক্যাব ইয়ুথ ফোরামের হাত ধরে শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটিতে যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে ই-কমার্স ক্লাবের February 8, 20231996 views