ঐতিহ্য

শরীরে পানি ছোঁয়ানো অশুভ, গোসলের বদলে মাখেন মাটি!

0
himba

নামিবিয়ার উত্তরাঞ্চলে, বিশেষ করে কুনেন অঞ্চলে বাস হিম্বা উপজাতিদের। অন্যান্য উপজাতিদের মতো হলেও তারা বিশেষ বেশ কিছু কারণে। স্বল্প পোশাক, গা ভর্তি পুঁতির গয়না ছাড়াও শরীরে লেগে থাকা কাদামাটি তাদের আলাদা করেছে।

এই জাতির মানুষেরা হিম্বা, ওমুহিম্বা বা ওভাহিম্বা নামেও পরিচিত। অদ্ভুত বিষয় হলো, হিম্বারা কখনো গোসল করেন না। তারা ত্বকে এক ধরনের লাল মাটি ব্যবহার করেন।
গোসল না করার পেছনে অনেকগুলো কারণ আছে। প্রথমত হিম্বারা যে অঞ্চলে বাস করেন তার পুরোটাই মরুভূমি। ফলে গোসলের জন্য পানি পাওয়া কষ্টসাধ্য।

২য় কারণ তাদের প্রথা অনুযায়ী শরীরে পানি ছোঁয়ানো তাদের জন্য অশুভ। বিশেষ করে নারীদের জন্য।

এখানকার নারীরা শরীরকে চকচকে ও সুগন্ধযুক্ত করতে সর্বদা একটি বিশেষ ধরনরর আয়ুর্বেদিক ওষুধ বা ক্রিম ব্যবহার করে। এই বিশেষ আয়ুর্বেদিক ওষুধ বা ক্রিমটি প্রকৃতপক্ষে নারীদের প্রশান্তি এবং এক ধরনের অনবদ্য গ্ল্যামার দেয়। এর নাম রেড অকরি। হিম্বারা রেড অকরি (গিরিমাটি বিশেষ ও তার রং) নামক ক্রিম তৈরির করার জন্য বিখ্যাত।

এই ক্রিম শুধু হিম্বা নারীরাই ব্যবহার করে। এটি সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। পাশাপাশি পোকামাকড়ের কামড়ও প্রতিরোধ করে। ক্রিমটি ব্যবহারের ফলে শরীরে তেমন লোমও হয় না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য হিম্বা নারীরা নিয়মিত ধোঁয়ায় স্নান করে নেন।

যেহেতু তারা গোসল করেন তাই শরীর পরিষ্কার রাখতে এবং দুর্গন্ধ মুক্ত রাখেন বিশেষ এক পদ্ধতিতে। পানির বদলে স্মোক বাথ বা ধোঁয়ার মাখেন শরীরে। এভাবেই শরীর পরিষ্কার রাখেন তারা। এর আগে শরীরে বিশেষ লালমাটি মেখে নেন। এরপর একটি পাত্রে কয়লার সঙ্গে কমিফোরা গাছের ডাল এবং পাতা মিশিয়ে নেন।

বর্তমানে অবশ্য অনেক হিম্বা নারী গোসল করেন, তবে শুধু বিয়ের দিন।

আরও পড়ুনঃ জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গভীর মহাকাশে আলোর সবচেয়ে উজ্জ্বল ঝলকানি দেখে বিস্মিত

নির্দিষ্ট বয়সের পর যে মাছ নারী থেকে পুরুষ হয়

Previous article

এই বাজারে খিচুড়ি ১৫ টাকা প্লেট!

Next article

You may also like

Comments

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *