ই-কমার্সউদ্যোক্তার গল্প ডিজিটাল বনাম ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং, উদ্যোক্তাদের জন্য কোনটা বেশি কার্যকর : এলিন মাহবুব By নিজস্ব প্রতিবেদক October 8, 20251 ShareTweet 1 বর্তমান সময়ে ব্যবসার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—কাস্টমারকে কোথায় এবং কীভাবে পাওয়া যাবে। একজন উদ্যোক্তা যতই ভালো প্রোডাক্ট বানান না কেন, সঠিক মার্কেটিং ছাড়া তা মানুষের নজরে আসবে না। এক্ষেত্রে সামনে আসে দুটি পথ: ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিং। প্রশ্ন হলো—কোনটা বেশি কার্যকর, আর উদ্যোক্তাদের জন্য কোনটা বেছে নেওয়া উচিত? ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং ও ডিজিটাল মার্কেটিং এর শক্তি: বছরের পর বছর ধরে ব্যবসার প্রধান ভরসা ছিল ট্র্যাডিশনাল মিডিয়া। পত্রিকা, টেলিভিশন, রেডিও, ব্যানার বা পোস্টারের মতো মাধ্যমের শক্তি এখনো কম নয়।স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিতি তৈরিতে কার্যকর। প্রবীণ গ্রাহক বা গ্রামাঞ্চলভিত্তিক অডিয়েন্সকে পৌঁছাতে সুবিধা। ব্র্যান্ডের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরিতে সহায়ক। ইন্টারনেট যুগে ডিজিটাল মার্কেটিং উদ্যোক্তাদের হাতে এনে দিয়েছে অসীম সুযোগ। সোশ্যাল মিডিয়া, ওয়েবসাইট, গুগল অ্যাডস কিংবা ইমেইল মার্কেটিং—সব কিছুই এখন হাতের মুঠোয়। ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ট্রেডিশনাল মার্কেটিং এর খরচের তুলনা: ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে খুব কম বাজেটে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। নির্দিষ্ট বয়স, লিঙ্গ, আগ্রহ, এমনকি লোকেশন ধরে টার্গেট করা যায়। কাস্টমারের প্রতিক্রিয়া সঙ্গে সঙ্গে মাপা যায়। গ্লোবাল অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং সাধারণত ব্যয়বহুল। একটি টিভি বিজ্ঞাপন বা জাতীয় পত্রিকায় বড় বিজ্ঞাপন দিতে গেলে বড় বাজেট প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে তুলনামূলক কম খরচে শুরু করা যায় এবং আর ও আই (রিটার্ন অন্য ইনভেস্টমেন্ট) মাপা সহজ হয়। টার্গেট অডিয়েন্সের দিক থেকে পার্থক্য: ◾ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং: একসাথে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেয়। ◾ডিজিটাল মার্কেটিং: নিখুঁতভাবে টার্গেট অডিয়েন্স সেগমেন্ট করা যায়। যেমন, ১৮-২৫ বছরের শিক্ষার্থী, যারা ঢাকায় থাকে এবং ফ্যাশনে আগ্রহী। আরও পড়ুনঃ ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত জীবনে সোশ্যাল প্রুফের প্রভাব : এলিন মাহবুব বিশ্বাসযোগ্যতা বনাম এনগেজমেন্ট: ট্র্যাডিশনাল বিজ্ঞাপন অনেকের কাছে এখনো বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কাস্টমারকে সরাসরি যুক্ত করে। কমেন্ট, লাইক, শেয়ার দিয়ে মতামত জানায়। অনলাইন রিভিউ বা ফিডব্যাক সরাসরি উদ্যোক্তাকে উন্নতির সুযোগ দেয়। কোন ব্যবসার জন্য কোনটা উপযুক্ত? লোকাল দোকান বা সেবাভিত্তিক ব্যবসায় ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতি বেশি কার্যকর হতে পারে। ডিজিটাল মার্কেটিং প্রযোজ্য সব ব্যবসায়, যেখানে —প্রোডাক্ট বা সার্ভিস আছে টার্গেট কাস্টমার অনলাইনে আছে ব্র্যান্ড বা বিক্রির লক্ষ্য আছে। ◾হাইব্রিড কৌশল: ডিজিটাল আর বাস্তবের নিখুঁত সংমিশ্রণ শুধু একপাশে ঝুঁকে পড়লে অনেক সম্ভাবনা হাতছাড়া হতে পারে। তাই উদ্যোক্তাদের উচিত হাইব্রিড কৌশল ব্যবহার করা। যেমন: স্থানীয় ইভেন্টে ব্যানার ব্যবহার করা, সেই সঙ্গে ফেসবুক লাইভে প্রচার চালানো। পত্রিকায় ফিচার প্রকাশের পাশাপাশি একই কন্টেন্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা। ◾ভবিষ্যতের ট্রেন্ডস: মার্কেটিং জগৎ দ্রুত বদলাচ্ছে। সামনে এ আই ,ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং, এ আর/ ভিআর আরও বড় ভূমিকা রাখবে। তবুও নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং-এর প্রয়োজন থেকে যাবে—বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকা বা প্রবীণ গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে। উদ্যোক্তাদের জন্য মার্কেটিং এর সেরা কৌশল হলো—নিজের অডিয়েন্স কোথায় আছে সেটা বোঝা। যদি কাস্টমার ডিজিটাল দুনিয়ায় সক্রিয় হয়, তবে অনলাইন মার্কেটিং-এ বিনিয়োগ জরুরি। আবার, যদি তারা অফলাইনে বেশি সক্রিয় থাকে, তবে ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতি উপেক্ষা করা যাবে না। আসল শক্তি হলো—অনলাইন ও অফলাইন পদ্ধতি ব্যবহার করে মার্কেটিং প্রচারণা করা। এলিন মাহবুব
ই-ক্যাব ইয়ুথ ফোরামের হাত ধরে শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটিতে যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে ই-কমার্স ক্লাবের February 8, 20232342 views