শিক্ষা

শিক্ষকসংকট ও শিক্ষার মান : দায় কার, সমাধান কোথায়?

0
uj

গত ১৬ অক্টোবর প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “স্নাতক অন্য বিষয়ে, তবু মাধ্যমিকে ইংরেজি ও গণিত পড়ান ২০ হাজারের বেশি শিক্ষক।”

এই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম সামনে এসেছে। যার মাধ্যমে সম্মানিত শিক্ষকসমাজের মান, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু আসলে কি এর জন্য শিক্ষকগণ দায়ী, নাকি অন্য কিছু আছে?

প্রশ্নের উত্তর নেই, কিন্তু প্রশ্নের মাধ্যমে নতুন প্রশ্নের আগমন। ধরে নিই, একজন আরবি শিক্ষক গণিত এবং ইংরেজি পড়ান, কারণ তাঁর গণিত এবং ইংরেজিতে পড়ানোর দক্ষতা রয়েছে। কিন্তু যোগ্যতা কি আছে? বিষয়ভিত্তিক পড়ার ফলে যে মৌলিক জ্ঞান একজন শিক্ষকের থাকে, সেটি কি অন্য বিষয়ের শিক্ষকের থাকবে? ভাববেন বিষয়টি।

ইংরেজি এবং গণিত এমন দুটি বিষয়, যেগুলোর মৌলিক ধারণা একজন শিক্ষার্থীর পরবর্তী শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে দেয়। অথচ প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছ-

ইংরেজি পড়ানো ৯,৯৮২ জন শিক্ষকের স্নাতকের বিষয় ভিন্ন।

গণিত পড়ানো ১০,১৬৯ জন শিক্ষকের গণিত বিষয়ে কোনো স্নাতক নেই; সবাই বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

এছাড়া প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অধিকাংশ শিক্ষকের প্রশিক্ষণও নেই। ব্যানবেইসের তথ্যমতে, দেশে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৬ হাজার ৭৩৭টি এবং শিক্ষকের সংখ্যা ২ লাখ ৪৩ হাজার।

এবার ভাবুন তো, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক কেন প্রয়োজন? প্রতি বছর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বাংলাদেশে ইংরেজিতে পাসের হার ৮০ শতাংশের নিচে এবং গণিতে ৭০ শতাংশের নিচে। তাহলে প্রশ্ন হলো, এর দায়ভার কার? মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের এই দুর্বল ভিত্তির প্রভাব পরবর্তী জীবনেও পড়ে।

আমাদের শিক্ষার্থীরা সাধারণ যোগাযোগও করতে পারে না। কথা বলছি ইংরেজি ও গণিত বিষয় নিয়ে, কিন্তু আপনি যদি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন, তখন দেখবেন, সব বিষয়েই একই অবস্থা; একেক বিষয় একেকজন পড়ান। এবার এই শিক্ষকদের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কি বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডি এবং শিক্ষা প্রশাসনের কোনো ভূমিকা নেই? যেকোনো সনদে যেকোনো বিষয় পাঠদানের যোগ্যতা রাখা হয়? বিষয়জ্ঞান এবং পাঠদানের যোগ্যতা ছাড়া কি শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন?

দুর্বল পাঠদানের ফলে শিক্ষার্থীরা শেখার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ আমরা জানি, আমাদের শিক্ষা প্রশাসন এবং নীতিনির্ধারকেরা রয়েছেন। আশা করি, তাঁরা দ্রুত শিক্ষকসংকট দূর করবেন। শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীর শেখার অধিকার নিশ্চিত করা পরস্পরবিরোধী নয়।

যোগ্য শিক্ষক, কার্যকর প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার সমন্বয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই বাস্তবসম্মত সমাধান গ্রহণ করাই হোক আমাদের অগ্রাধিকার।

-মো. হাবিবুর রহমান
শিক্ষক ও লেখক

কাঁটাচামচে চারটি কাঁটাই কেন থাকে, ভেবে দেখেছেন কখনো?

Previous article

You may also like

Comments

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *