উদ্যোক্তার গল্পদেশি উদ্যোক্তা তিন বোনের যৌথ প্রচেষ্টায় এগিয়ে চলছে আওরাত By নিজস্ব প্রতিবেদক January 26, 20220 ShareTweet 0 উদ্যোক্তা জার্নালের বিশেষ আয়োজন ‘উদ্যোক্তা গল্প’-র আজকের পর্বে আলোচনা হলো অনলাইনে নিজের উদ্যোগ নিয়ে কাজ করা সিদরাতুল মুনতাহা তাছমি’র সঙ্গে। যিনি কাজ করছেন ঢাকাই জামদানী, টাংগাইলের তাঁত এবং সিলেটের মনিপুরী নিয়ে। আজ শুনবো তার উদ্যোগের সফলতার গল্প। আমি সিদরাতুল মুনতাহা তাছমি। আমি বিবাহিত। আমার স্বামী একজন ডাক্তার। আমার সাড়ে পাঁচ মাস বয়সের একটি মেয়ে আছে। নিজের বাড়ি এবং শ্বশুর বাড়ি কক্সবাজার, চকরিয়া। এইস এস সি থেকে পড়াশোনা চট্টগ্রামে। সেই সুবাদে ২০০৮ সাল থেকে চট্টগ্রাম থাকতাম। পড়াশোনা শেষ করে ২০১৯ সাল থেকে জব সুবাদে ঢাকা আসি। চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স-মাস্টার্স করেছি। আমার ছোট ২ বোন। আদিয়াতুল নচনুয়া রুমালি (মেঝ)। সে চট্টগ্রাম কলেজে ইংরেজিতে মাস্টার্স পড়ছে। ১ মাস হলো বিয়ে হয়েছে। হাজবেন্ড ঢাকা থাকাতে আমাদের পেইজ এর ম্যক্সিমাম কাজ কিন্তু সে করে। মেঝ বোনই পেইজ এর এডমিন। হাদিয়াতুল জান্নাত ইমি আমার ছোট বোন, সে অনার্স প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। আমাদের তিন বোন এর যৌথ প্রচেষ্টা আওরাত। এই মাসে আব্বু অবসরে গিয়েছেন। আব্বু আম্মু তাদের আদরের নাতনির জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা শিফট করছেন। তাই এতদিন চট্টগ্রাম থেকে আমাদের কার্যক্রম চলে থাকলেও আগামী মাস থেকে চলবে ঢাকা কেন্দ্রিক। অনলাইনে বিজনেস করার কথা মাথায় আসে লকডাউন এর শুরুর দিকে। ছোট ২ বোন পড়াশোনা নিয়ে খুব বেশি সিরিয়াস না। তাই আমি ভাবলাম জব করতেই হবে এমন তো কথা নেই। জব না করেও অনেক ভাল কিছু করা যায়। কিংবা জবের পাশাপাশিও কিছু করা যায়। তাই মুলত ছোট ২ বোন এর কথা ভেবেই উদ্যোগ এর শুরু। প্রথম উদ্যোগ শুরু করেছিলাম ৩০,০০০ টাকা মুলধন নিয়ে। প্রথমে দোকান থেকে পাইকারি কিনে শুরু করলেও এখন চেষ্টা করছি সরাসরি তাঁতি থেকে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক গুলো সংগ্রহ করার। সেই ভাবেই কাজ করছি। ঢাকাই জামদানী, টাংগাইলের তাঁত, সিলেটের মনিপুরী এইগুলো আপাতত আমাদের সংগ্রহে রয়েছে যা আমরা সরাসরি নারায়ণগঞ্জ, টাংগাইল এবং সিলেট গিয়ে সংগ্রহ করছি। প্রতিবার তো গিয়ে প্রোডাক্ট আনা সম্ভব হয় না। তাই একবার গিয়ে যাচাই করে এসেছি। এরপর থেকে পছন্দ মতো দেখে অনলাইনে অর্ডার করি। ইচ্ছে আছে জামালপুর এবং যশোর যাওয়ার হাতের কাজের ড্রেস আনার জন্য। উদ্যোগ শুরু করার পর নানা অসুবিধার কারণে কিছুদিন পরপর ব্যবসা বন্ধ রাখতে হয়েছে। বোন এর পরীক্ষা, আমার অসুস্থতা, মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম চলে যাওয়া এই সব মিলিয়ে বেশি দূর আগাতে পারিনি। তবে আগামী মাস থেকে ইচ্ছে আছে সবকিছু ঢেলে সাজিয়ে মনোযোগ দিয়ে কাজ করার। এত দিন আমি ঢাকা থাকতাম আর বাকি ২ জন চট্টগ্রাম থাকতো। এই জন্য ঝামেলা হচ্ছিল। ইনশাআল্লাহ এই সমস্যা টি শেষ হবে। ঢাকা থেকে সব জেলায় যাতায়াত সুবিধা হবে। দেশের ঐতিহ্যগুলো নিয়ে কাজ করা আরও সহজ হবে। এক বছরের কিছু বেশি সময় পার হলো আমাদের উদ্যোগ এর। সেল ৩/৪ লাখ টাকার মতো হয়েছে। অধিকাংশ ক্রেতা আমাদের পরিচিত গন্ডির মধ্যেই। যারাই নিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন। ছোটখাটো কিছু ভুল হয়তো শুরুর দিকে হয়েছিল না বুঝার কারণে। তবে আমরা প্রতিনিয়ত শিখছি, জানছি এবং নিজেদের কাজকে সুন্দর করার চেষ্টা করছি। এই এক বছরে আওরাত আমাদের তিন বোন এবং পরিবারের খুব আপন হয়ে উঠেছে। ইচ্ছে আছে আমাদের ছোট আওরাত একদিন বিশ্বস্ত পেইজ হিসেবে পরিচিত হবে। দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাকগুলো পৌঁছে দেবে সকলের ঘরে ঘরে সুনামের সাথে।
মিল্ক ভিটা থেকে বিশ্ববাজার : এক জেলা এক পণ্য মডেলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের রপ্তানি বিপ্লব April 23, 2026240 views
ই-ক্যাব ইয়ুথ ফোরামের হাত ধরে শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটিতে যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে ই-কমার্স ক্লাবের February 8, 20232345 views