উদ্যোক্তার গল্পদেশি উদ্যোক্তা ক্লায়েন্ট সন্তুষ্টি আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার : তাসফিয়া মান্নান By নিজস্ব প্রতিবেদক October 21, 20241 ShareTweet 1 উদ্যোক্তা জার্নালের বিশেষ আয়োজন ‘উদ্যোক্তা গল্প’-র আজকের পর্বে, কথা হলো উদ্যোক্তা তাসফিয়া মান্নানের সঙ্গে। আজ শুনবো তার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প। আসসালামু আলাইকুম। আমি তাসফিয়া মান্নান, একজন গুগল সার্টিফাইড ডিজিটাল মার্কেটিং স্পেশালিষ্ট। আমার জন্ম ও বেড়ে উঠা চট্টগ্রামে। অনলাইন জগতে নিজের একটিভিটি শুরু করি একটা স্কিন ও হেয়ার কেয়ার রিলেটেড ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে, যেখানে আমি স্কিন কেয়ার ও হেয়ার কেয়ারের অনেক টিপস শেয়ার করতাম। সেই পেইজ নিয়ে চট্টগ্রামের বেশি পরিচিত একটি গ্রুপে জয়েন হলাম। সেখান থেকেই আমার পথচলা শুরু। আমি মূলত কাজ করছি ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কিত সকল ধরনের সার্ভিস নিয়ে যেমন ফেসবুক মার্কেটিং, হোয়াটসঅ্যাপ মার্কেটিং, টিকটক অর্গানিক মার্কেটিং, ইউটিউব মার্কেটিং, গুগল এ্যাডস। আমার পেইজের নাম Freelancer Tasfia আমি প্রথমে স্কিন ও হেয়ার কেয়ার নিয়ে কাজ করা শুরু করেছি এরপর আমি কন্টেন্ট রাইটার ও সোশ্যাল মিডিয়া এক্সিকিউটিভ হিসাবে কাজ করা শুরু করি। এরপর আমি গুগল এবং ওয়েবকোডার আইটি থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে কোর্স করে এই সেক্টরে পথচলা শুরু করি, এখনো কাজ করছি ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে। আমি মূলধন ছাড়াই একটি পেইজ ওপেন করার মাধ্যমে আমার অনলাইন বিজনেস শুরু করি। ৩ মাসের মাথায় আমার ৩ হাজার টাকা খরচ হয় নিজের একটি পোর্টফলিও বানাতে।একজন উদ্যোক্তা হতে যা যা প্রয়োজন: – নতুন নতুন ক্রিয়েটিভ আইডিয়া বের করা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা থাকতে হবে। – প্রচুর ধৈর্য নিয়ে কাজ করতে হবে। – ঝুঁকি নেয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। – নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে। – একটি টিম পরিচালনা করার ক্ষমতা থাকতে হবে। – গ্রাহকের চাহিদা বুঝে সন্তুষ্ট করতে পারতে হবে। – যোগাযোগ দক্ষতা থাকতে হবে। – ব্যর্থতা মেনে নেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। বর্তমানে আমি নিজেই কাজ করছি। কোনো কর্মী নেই। কখন পড়ালেখা শেষ হবে, কখন চাকরির জন্য এপ্লাই করবো, কখন চাকরি হবে সেই আশায় বসে থাকিনি। এইচএসসি প্রথম বর্ষ থেকে আমি অনলাইন জগতে টুকটাক কিছু একটিভিটির মাধ্যমে নিজের স্কিল গ্রো করার পিছনে সময় দিয়ে আসছি। আলহামদুলিল্লাহ সেই স্কিল এখন আমাকে কাজে দিচ্ছে। সব সন্তানেরই একটা আশা থাকে মা বাবার মুখে হাসি ফোটানো। মা বাবাকে কিছু গিফট করবো, তাদের মুখের হাসিটা দেখবো সেই তাগিদে আমি আমার বিজনেসের পথচলা শুরু করি। আমার পেইজের বয়স ২ বছর হতে যাচ্ছে। এর আগে আমি আমার ফেসবুক আইডির মাধ্যমে কাজ শুরু করি। তখন আসলে এতো কিছু জানতাম না। এখন আলহামদুলিল্লাহ একটা বিজনেস পেইজ আছে। ক্লায়েন্ট সন্তুষ্টি আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। ক্লায়েন্ট খুশি তো আমরা খুশি। আমরা কখনো ক্লাইয়েন্টকে ফিরিয়ে দেই না যথেষ্ট চেষ্টা করি কাজ করে দেয়ার। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট নারী উদ্যোক্তাদের বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে যা আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে জানলে নিজেকে অনেক আপডেটেড রাখতে পারবো। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট নারী উদ্যোক্তাদের জন্য যে সুযোগ সুবিধাগুলো দিয়ে থাকে তার কিছু বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করছি: – বিভিন্ন ট্রেইনিং প্রোগ্রাম ও ঋণ সুবিধা দিয়ে থাকে। – ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে। – হস্তশিল্প, ফ্যাশন ডিজাইন, খাবার এবং অন্যান্য সৃজনশীল খাতে উদ্যোগ শুরু করার সুযোগ পাচ্ছে। – ফেসবুক ভিত্তিক ব্যবসা করতে পারছে। আরও পড়ুনঃ আমি স্বপ্ন দেখি একটা চেইনশপের : নাজনীন সুলতানা রিমি তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। যেমন: – অনেক পরিবার কিংবা সমাজ এখনো নারীরা যে ব্যবসা করছে বা করবে তা পছন্দ করে না বা নারী যে ব্যবসা পরিচালনা করবে তা সমর্থন করে না। – নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ সুবিধা থাকলেও সেই ঋণ পেতে যা যা দক্ষতা কিংবা ডকুমেন্টস লাগে তা অনেক নারীর নেই কিংবা জানে না। – উদ্যাক্তা প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকলেও অনেক নারী পারিবারিক কিংবা সামাজিক কারনে সেই প্রশিক্ষণে যুক্ত হতে পারে না। প্রতিবন্ধকতা ছিলো, থাকবে। সবকিছু পাড়ি দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমার এখনো মনে আছে প্রথম যখন কাজ শুরু করি তখন ক্লায়েন্টের কাজ পেলে যে পরিমাণ খুশি হতাম এর চেয়ে বেশি আতঙ্ক কাজ করতো যে কাজটা ঠিকভাবে করতে পারবো কিনা, সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারবো কিনা, ক্লায়েন্টকে খুশি করতে পারবো কিনা। পরিবারের সাপোর্ট নিয়ে যদি কিছু বলি তাহলে এটুকু বলবো আলহামদুলিল্লাহ আমি পরিবারের সবার বেশ সাপোর্ট পেয়েছি তবে তার মধ্যে আমার বাবার সাপোর্ট ছিলো অপরিসীম। আমি প্রথমে যখন কাজ শুরু করি তখন বাসায় কিছু জানায়নি। যখন থেকে আলহামদুলিল্লাহ আর্নিং শুরু করতে পেরেছি তখন পরিবারকে জানিয়েছি। সেল আলহামদুলিল্লাহ ভালো। একজন স্টুডেন্ট মানুষ হিসাবে নিজের খরচ নিজে চালানোর জন্য যেটুকু প্রয়োজন সেটুকু হয়ে যায়, চলতে পারি। আমার সেবায় আমার ক্লায়েন্টরা ৯৫% সন্তুষ্ট। সরকারি বা বেসরকারি কোনো সহযোগিতা এখনো আমি পাইনি। যেহেতু ফ্রীল্যান্সিং সেক্টরে কাজ করি আমি আমার এই বিজনেসের মাধ্যমে ঢাকা ওয়েবকোডার আইটি হতে সাকসেসফুল ফ্রিল্যান্সার এওয়ার্ড অর্জন করি। সেই সাথে বিভিন্ন প্রোগ্রামে স্পনসর হওয়ার সুযোগ পাই। গুগল থেকে সার্টিফিকেট পেয়েছি। আমার অনেক বড় স্বপ্ন একদিন আমার এই বিজনেস ব্র্যান্ডে পরিণত হবে। সবার মুখে মুখে থাকবে আমার ব্র্যন্ডের নাম। এক নামে সবাই চিনবে বিস্তারিত জানার আগেই। উদ্যোক্তা জার্নাল/মাসুদুজ্জামান রাসেল
মিল্ক ভিটা থেকে বিশ্ববাজার : এক জেলা এক পণ্য মডেলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের রপ্তানি বিপ্লব April 23, 2026240 views
ই-ক্যাব ইয়ুথ ফোরামের হাত ধরে শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটিতে যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে ই-কমার্স ক্লাবের February 8, 20232343 views