জীবনযাপন

জীবনকে সুন্দর করতে বদলান দৃষ্টিভঙ্গি, বাড়ান কৃতজ্ঞতা

0
uj

আজ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কিছু কথা শেয়ার করতে চাই। আমাদের জীবনে ২৫ থেকে ৩০ বছরের সময়টা অনেকের জন্যই বেশ চ্যালেঞ্জিং। এই বয়সে সফল হওয়ার জন্য ছুটতে ইচ্ছে করে, কিন্তু অনেক সময় আমরা নিজেরাই জানি না, সফলতা বলতে আসলে কী বুঝি!

অন্যের সাফল্য দেখে নিজের জীবনকে ছোট মনে হয়। নিজের কাছে প্রত্যাশা বাড়তে থাকে, বাড়তে থাকে মানসিক চাপ ও অস্থিরতা।

আমার ব্যক্তিগত উপলব্ধি, জীবনে দুটি বিষয়ের প্রভাব কমাতে পারলে মানসিক শান্তি খুঁজে পাওয়া অনেক সহজ হতে পারে।

১. Comparison – অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা।

২. Expectation – অন্যের কাছে অতিরিক্ত প্রত্যাশা।

মনে রাখবেন, প্রত্যেক মানুষের জীবন আলাদা। সবার পরিস্থিতি, সুযোগ ও এগিয়ে যাওয়ার গতি এক নয়। তাই অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা না করে গতকালের নিজের চেয়ে আজ একটু ভালো হওয়ার চেষ্টা করুন।

প্রত্যাশা রাখুন, তবে সেই প্রত্যাশা যেন আপনার শান্তি কেড়ে না নেয়। নিজের সুখের দায়িত্ব পুরোপুরি অন্যের হাতে তুলে দেবেন না।

নিজের ভেতরে শান্তি খুঁজুন

আমরা অনেক সময় বাইরের পৃথিবীকে সুন্দর করতে গিয়ে নিজের ভেতরের যত্ন নিতে ভুলে যাই। অথচ নিজের মানসিক সুস্থতা, আত্মসম্মান ও ভালো থাকার গুরুত্ব অপরিসীম।

যে অভ্যাস বা সম্পর্ক আপনাকে বারবার কষ্ট দেয়, সেখানে সুস্থ সীমারেখা তৈরি করুন। তবে মনে রাখবেন, জীবনে কঠিন সময় আসা মানেই আপনি ব্যর্থ নন। প্রয়োজনে কাছের মানুষের সহযোগিতা নিন।

অন্যের কাছ থেকে পাওয়ার প্রত্যাশার পাশাপাশি, দেওয়ার আনন্দও অনুভব করুন। আমরা পরিচিত মানুষদের খুশি করতে কত কিছুই না করি! মাঝেমধ্যে বন্ধুকে খাওয়ানোর পাশাপাশি এমন একজন অসহায় মানুষকে খাবার খাওয়ান, যার হয়তো একবেলা ভালো খাবারের সামর্থ্য নেই।

শপিং কিংবা অন্য কোনো কাজে পরিচিত কাউকে সঙ্গে নেওয়ার পাশাপাশি কোনো একদিন একজন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ান।

মানুষকে সাহায্য করার জন্য সব সময় অনেক অর্থের প্রয়োজন হয় না। কখনো একটু সময়, একটু সম্মান কিংবা আন্তরিক একটি কথাও কারও মুখে হাসি ফোটাতে পারে।

আরও পড়ুনঃ সুখির স্বপ্ন!

মানুষের কাছ থেকে প্রতিদান পাওয়ার হিসাব না করে, স্রস্টার সন্তুষ্টির জন্য ভালো কাজ করার চেষ্টা করুন।

ছোট্ট দুটি শব্দ, অথচ কী অসাধারণ!

Thank you এবং Sorry।

আমি যখন থেকে Thank you শব্দটি শিখেছি, তখন থেকেই এটি বলার চেষ্টা করি। পাশাপাশি ভুল হলে Sorry বলতেও দ্বিধা করি না।

যে দোকান থেকে চা বা কফি খাই, যার কাছ থেকে সবজি কিংবা মুদি পণ্য কিনি, এমনকি রাস্তায় অটো নিয়ে যিনি আমার সামনে এসে দাঁড়ান, তাদেরও ধন্যবাদ জানাই।

মজার বিষয় হলো, অনেক সময় তাঁরাও আমাকে Thank you বলেন! ভাবুন তো, সামান্য একটি শব্দ কী সুন্দরভাবে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সৌহার্দ্য তৈরি করতে পারে!

মানুষের পেশা, আর্থিক অবস্থা কিংবা সামাজিক পরিচয় যা ই হোক, প্রত্যেকের সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলুন। কারণ সম্মান দেওয়া মানুষের সামর্থ্যের নয়, মানসিকতার পরিচয়।

স্রস্টার সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করুন

ঘুমানোর আগে স্রস্টার কাছে দোয়া করি। জীবনে মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য যতটা ব্যস্ত থাকি, তার চেয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত নিজের দায়িত্ব, সততা ও সৎকর্মের প্রতি।

কে কী বলল, কে কী করল, সবকিছু নিয়ে ব্যস্ত না থেকে নিজের কাজ ও আচরণের দিকে মনোযোগ দিন।

নিজেকে প্রশ্ন করুন, স্রস্টা যে উদ্দেশ্যে আমাদের সৃষ্টি করেছেন, সেই অনুযায়ী জীবন পরিচালনার চেষ্টা করছি তো?

জীবনকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করে নয়; কৃতজ্ঞতা, মানবিকতা, আত্মসম্মান ও সৎকর্মের মাধ্যমে সুন্দর করে তুলুন।

মনে রাখবেন, জীবনের সব সমস্যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে অনেক ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ ও সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।

নিজে ভালো থাকুন, অন্যকে ভালো রাখার চেষ্টা করুন। কারও জীবনে কষ্টের কারণ নয়, সম্ভব হলে প্রশান্তির কারণ হয়ে উঠুন।

সবার জীবন সুন্দর হোক। সবার মনে শান্তি আসুক। স্রস্টা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন। এই প্রত্যাশায়…

লেখক: হাবিবুর রহমান

সুখির স্বপ্ন!

Previous article

You may also like

Comments

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *