উদ্যোক্তার গল্পদেশি উদ্যোক্তা প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে আজ সফল উদ্যোক্তা রুবিয়া আক্তার By নিজস্ব প্রতিবেদক September 25, 20221 ShareTweet 1 উদ্যোক্তা জার্নালের বিশেষ আয়োজন ‘উদ্যোক্তা গল্প’-র আজকের পর্বে, কথা হলো উদ্যোক্তা রুবিয়া আক্তারের সঙ্গে। আজ শুনবো তার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প। আমি রুবিয়া আক্তার। জন্ম- ঢাকা, বেড়ে ওঠাও ঢাকায়। এইচএসসি এর পরপরই বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পর স্বামী বললেন, পড়াটা শেষ করো তবে চাকরি করা যাবেনা। তখন নিজেকে অন্যভাবে ভাবতে শুরু করলাম, নিজেই নিজেকে উৎসাহ দিলাম ও অনুপ্রেরণা দিয়ে এগিয়ে গেলাম। এখানে না বললেই নয়, মহিলা অধিদপ্তরের ট্রেইনার মমতাজ আপা আমাকে যথেষ্ট অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আমি হোমমেইড ফুড (বেকিং আইটেম) এবং ব্লক বাটিক ও টাই-ডাই নিয়ে কাজ করছি। আমার প্রতিষ্ঠানের নাম “Ruby’s Creative Canvas” (রুবি’স ক্রিয়েটিভ ক্যানভাস)। এখানে মহিলাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের প্রোডাক্ট সেল এর ব্যবস্থা করা হয়। ছোট পরিবার থেকে খুব বড় একটা পরিবারে এসে পরেছিলাম। তাই আল্লাহর হুকুম মেনে মানিয়ে চলার চেষ্টা শুরু করলাম। জয়েন পরিবার হওয়ায় খুব সমস্যা হয়েছিলো। আমার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি ছিলেন না, আমার ভাসুররা আমার কাজকে বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত করেছেন। কিন্তু আমার জীবনসঙ্গী আমাকে শুরু থেকেই উৎসাহ দিয়েছেন। প্রচন্ড উত্থানপতনের মধ্য দিয়ে মোটামুটি একটা যুদ্ধ করেই নিজের কাজটাকে ধরে রেখেছি। মূলধন বলতে একটা ওভেন, বাবার দেয়া টেবিল, চেয়ার আর আমার স্বামীর দেয়া কিছু কাচামাল সব মিলে ১০,০০০ হাজার টাকার মতো হবে। একজন উদ্যোক্তা হতে হলে প্রচন্ড আত্নবিশ্বাসী হতে হবে। যেটা আমার প্রথমে ছিলোনা, বড় পরিবার দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তবে ধীরে ধীরে আমি আত্নবিশ্বাসী হয়ে উঠেছি। এক্ষেত্রে আমার ছাত্রীরা আমাকে উৎসাহ দিতো। সততা এবং পরিশ্রম ছাড়া উদ্যোক্তা হওয়া যায় না। বর্তমানে ৬ – ১০ জন কর্মী আছে আমার। স্থায়ীভাবে আছে ৫ জন। আমি আবিষ্কার করেছি আমি খুবই ক্রিয়েটিভ, বিভিন্ন বিষয়ে আমার ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে। পড়াশোনা শেষ করে অন্য বসের অধীনে কাজ না করে ঘরে বসে নিজে বস হয়ে আরো ১০ জন নারীকে কাজ দিতে পারাটা আমার কাছে ভালো লেগেছে। আমি প্রায় ১০০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি, স্বাবলম্বী করার ক্ষুদ্র চেষ্টা করেছি। তাই আমি চাকরির পেছনে দৌড়াই নি। আমি শুরু করেছিলাম ১৯৯৮ সালে। তখন আমার উদ্যোগের নাম ছিলো অনন্যা। এরপর ২০০৩ এ নাম পরিবর্তন করে রাখলাম গৃহ নিপুণ। গৃহ নিপুণ নিয়ে চললাম ২০১০ পর্যন্ত, এর মাঝে অনেক উত্থানপতন হয়েছে। যাইহোক, সবশেষে আমার কন্যাদের, আমার ছোট ভাই ও স্বামীর অনুপ্রেরণায় আমার সর্বস্তরের ক্রিয়েটিভিটি দেখে প্রতিষ্ঠানের নামকরণ হলো “Ruby’s Creative Canvas”। আল্লাহর অশেষ রহমতে সকলের ভালোবাসায় এগিয়ে যাচ্ছে আমার প্রতিষ্ঠান। আমি যখন শুরু করেছিলাম, তখন নারীদের জন্য কাজের পরিবেশ তেমন উপযোগী ছিলোনা। লেখাপড়া শিখে এসব কি কাজ করছে, নিচু মেন্টালিটির কাজ এমন নানা রকম সমস্যার সৃষ্টি হতো। তবে বর্তমানে বেশ ভালো একটা জায়গা তৈরি হয়েছে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য। আরও পড়ুন: সন্তানের দেখভালের বিষয় চিন্তা করে শিক্ষক না হয়ে উদ্যোক্তা হলেন ইতি আমার প্রতিবন্ধকতার অভিজ্ঞতাটা খুবই খারাপ ছিলো। সামান্য একটা উদাহরণ দেই, আমার প্রতিষ্ঠানের নামে একটা সাইনবোর্ড ছিলো যেটা ১০ বার নামিয়ে ভেঙে ফেলেছিলো আর আমি ১০ বার মেরামত করে নিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ সেল মোটামুটি ভালোই হচ্ছে। আমার কাস্টমার আমার প্রোডাক্টের প্রতি খুবই সন্তুষ্ট। যা আমার পেজের রিভিউ দেখলেই বুঝতে পারবেন। এখন অব্দি সরকারি-বেসরকারি কোনো সহযোগিতা পাইনি। আমার প্রায় ২৫ হাজার ফলোয়ার আছে, এদের ভালোবাসাই আমার অর্জন। আমি আমার প্রতিষ্ঠানের পরিপূর্ণ একটা রূপ দিতে চাই, যেই রূপটা দেয়ার জন্য আমি দীর্ঘ ১৫ বছর কষ্ট করেছি। আলহামদুলিল্লাহ এখন কিছুটা গুছিয়ে এনেছি, বাকিটাও ইনশাআল্লাহ করে ফেলবো।যেখানে আমাদের নারীরা কাজ করবে, স্বাবলম্বী হবে এবং রুবিকে চিনবে “Ruby’s Creative Canvas” এর নামে।
নারী উদ্যোক্তা : সহানুভূতির দেয়াল ভেঙ্গে যোগ্যতার স্বীকৃতি প্রয়োজন – জয়া মাহবুব December 18, 2025250 views
পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোই উদ্যোক্তার সবচেয়ে বড় সুপারপাওয়ার : এলিন মাহবুব December 15, 2025169 views
ই-ক্যাব ইয়ুথ ফোরামের হাত ধরে শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটিতে যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে ই-কমার্স ক্লাবের February 8, 20231974 views