উদ্যোক্তার গল্পদেশি উদ্যোক্তা

মানুষের কল্যাণে দেশীয় পণ্য নিয়ে কাজ করছেন জনি

1
jony2

উদ্যোক্তা জার্নালের বিশেষ আয়োজন ‌‘উদ্যোক্তা গল্প’-র আজকের পর্বে, কথা হলো উদ্যোক্তা মোঃ আহসান জান সিদ্দিকী জনির সঙ্গে। আজ শুনবো তার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প। 

আমি মোঃ আহসান জান সিদ্দিকী জনি। ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩ সালে পাবনা জেলায় জন্ম। পাবনা জেলার চাটমোহর থানা আটলংকা গ্রামে আমার শিশুকাল কেটেছে, সেই গ্রামেরই স্কুলে আমার প্রথম পাঠদান শুরু হয়। বাবার চাকরির সুবাদে বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়ানো ও বেড়ে ওঠা বেশ মধুর ছিলো আমার। আমি এসএসসি, এইচএসসি, অনার্স এবং মাস্টার্স করেছি পাবনাতে। ২০০৪ সালে আমি ঢাকাতে আসি সিএমএ পড়ার জন্য, সেই থেকে ঢাকায় আমার বসবাস।

২০২০ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের দিকে করোনাকালীন সময় যখন সবাই ঘরবন্দী ছিলাম, তখন আমার মনে হলো এই ঘরবন্দী মানুষগুলোকে সুষম খাদ্য কিভাবে দেয়া যায়, কিভাবে তাদের ঘরে পৌঁছে দেয়া যায়, যা তাদের উপকার আসবে। এমন চিন্তা থেকে আমার অনলাইন বিজনেসে আসা।

ন্যাচারাল খাদ্য সামগ্রী যেমন ঘি, সরিষার তেল, কালোজিরার তেল, মধু ও দেশীয় পোশাক লুঙ্গি, গামছা নিয়ে কাজ করছি। আমার প্রতিষ্ঠানের নাম ‘গ্রামীন পণ্যের হাট’। আমরা অনলাইন এবং অফলাইনেও ডেলিভারি দিয়ে থাকি।

প্রথমদিকে যখন ফেসবুকে পোস্ট করতাম মানুষ তখন খুব হাসাহাসি করতো। খুব ছোট আকারে শুরু করি। আমার মূলধন বলতে ৫ লিটার সরিষার তেল ও ৫ কেজি ঘি দিয়ে শুরু করেছিলাম।gph1একজন উদ্যোক্তা হতে হলে আমি মনে করি, প্রথম ও শেষ গুণ হলো লেগে থাকা ও ধৈর্য ধারণ করা। বর্তমানে আমার প্রতিষ্ঠানে ২ জন কর্মী কর্মর‍ত আছে।

আমি সমাজের জন্য কিছু একটা করতে চেয়েছি। যাতে করে মানুষের উপকার করতে পারি, সেই উপলব্ধি থেকে ব্যবসায় আসা।

আমার প্রতিষ্ঠান সবসময় চেষ্টা করছে প্রকৃতি থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে দেশীয় পণ্য উৎপাদন করে দেশ ও বিশ্বের দরবারে উপস্থাপন করতে।

আরও পড়ুনঃ নিজেকে একজন সুপ্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে চান জেসমিন জাহান

প্রতিবন্ধকতা বলতে প্রথমদিকে সবাই খুব হাসাহাসি ও ঠাট্টা তামাশা করতো, কটু কথা বলতো যাতে আমি সামনে আগাতে না পারি এবং প্রথমদিকে আমার তেমন একটা সেল হতো না ফলে খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলাম।

মাসিক ১ লক্ষ টাকা সেল হয়। আমার বেশিরভাগই রিপিট কাস্টমার। সেই শুরু থেকে এখনো দুই/তিন বছরের পুরাতন কাস্টমার আমার রয়েছে এবং নতুন নতুন রিপিট কাস্টমার তৈরী হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি কোনো সহযোগিতা পাইনি। আমার প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো আমার রিপিট কাস্টমার এবং সেই রিপিট কাস্টমাররা আরো নতুন নতুন কাস্টমার নিয়ে আসে।

আমার প্রতিষ্ঠান দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায় এবং এই প্রতিষ্ঠানে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে এটাই আমার লক্ষ্য।

‘ট্যুরিজম হাব’ হচ্ছে কক্সবাজার

Previous article

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত প্রধানমন্ত্রীর

Next article

You may also like

1 Comment

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *